We are dedicated to all those people who change the world a better place instead of all challenges. This blog is a history based blog, here we talk about the historical facts, Historical persons life history, Culture& heritage of India, and their present-day situation. And only one thing we want to say you Rise Above Impossible.

Search This Blog

Friday, June 28, 2019

হুগলী মহসীন কলেজের ইতিকথা


হুগলী জেলার ইতিহাস ও গৌ্রব সমৃদ্ধ এই মহসীন কলেজ, যা জেলার দ্বিতীয় বৃহৎ (আয়তন এবং সন্মান) কলেজ। কিছু বছর আগে পর্যন্ত একটি কথা এই কলেজ নিয়ে প্রচলিত ছিল 'মহসীন কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি ' , আজ আমাদের আলোচনা এই কলজের ইতিহাস নিয়ে।
হুগলী মহসীন কলেজ

ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন - ১৭৭৪ খ্রিঃ মঁসিয়ে পেরন নামক একজন ফরাসি সৈনিক বহু অর্থ উপার্জন করে বঙ্গদেশে আসেন এবং ১৮১০ খ্রিঃ মহসী্ন কলেজের এই ভবনটি নির্মাণ করেন এবং তার কিছু দিন পরই এই ভবন বিক্রয় করে নিজদেশে ফিরে যান।শ্রী প্রানকৃষ্ণ হালদার নামক এক জনৈক ব্যাক্তি বাড়িটি কিনে নেন বসবাস করতে শুরু করেন । ১৮৩৬ খ্রিঃ তিনি শ্রী জগমোহন শীলকে এই ভবন ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন ।

কলেজের দ্বারদ্ঘোটন - ১৮৩৬ খ্রিঃ ১লা অগস্ট মহসীন কলেজের দ্বারদ্ঘোটন হয় , তবে সেই সময় কলজের নামছিল 'কলেজ অফ মহম্মদ মহসিন ' । 

কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা - প্রত্যেক ছাত্র - ছাত্রী জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই কলেজে বিনা বেতনে শিক্ষালাভ করতে পারত । তখন এট্রাস ও বিএ পরীক্ষা চালু না হওয়ায় তখন ছাত্র -ছাত্রীরা জুনিয়ার ও সিনিয়র স্বলারশিপ পরীক্ষা দিত ।
তখন কলেজ দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল ১) ইংরাজি বিভাগ কলেজ এবং ২) কলিজিয়েট বিদ্যালয় । সিনিয়র ডিভিশন সেকশান 'এ' এবং জুনিয়র ডিভিশন ' বি ' তার মধ্যে সিনিয়র ডিভিশনে তিনটি শ্রেণী এবং জুনিয়র ডিভিশনে চারটি শ্রেণী ছিল ।

নূতন শিক্ষাব্যবস্থা -   ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী  থেকে ' কাউনসিল অফ এডুকেশন ' বিনা বেতনে শিক্ষা দেবার প্রথা তুলেদেন ।  সিনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের তিন টাকা এবং জুনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের দুটাকা দেতন ধার্য হয় তবে বেতন দিতে অক্ষম ছাত্ররা বিনা বেতনেই পড়াশোনা করতেন।

কলজের নাম পরিবর্তন - ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী মাস থেকে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী কলেজ ' ।পরে কলেজের ১০০ বছর পূর্তি থেকে কলজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী মহসীন কলেজ ' ।

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৮৫৭ খ্রিঃ থেকে  মহসীন কলেজ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৯৬০ খ্রিঃ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এই কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।

প্রথম অধ্যক্ষ - ডক্টর টমাস এ ওয়াইজ নামক হুগলীর এক সিভিল সার্জেন এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন ।

বিশিষ্ঠ ছাত্র - এই কলেজের বহু শিক্ষার্থী বহু ক্ষেত্রে সফল তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু শিক্ষার্থীরা যাদের ব্যপারে না বললেই নয় তারা হলেন
 ১) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক এবং সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৮৪৯ খ্রিঃ থেকে ১৮৫৬ খ্রিঃ পর্যন্ত শিক্ষালাভ করেন ।

২) কবি , গীতিকার এবং নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই কলেজেই শিক্ষালাভ করেন।

৩) ভারতীয় বামপন্থার প্রান প্রতিষ্ঠাতা মুজাফ্ফর আহমেদ যিনি কাকাবাবু নামে বেসি পরিচিত ছিলেন তিনিও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন।

৪) লেখক ও কবি সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , যিনি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাইয়ের দাদা হিসাবে অধিকতর পরিচিত ছিলেন।

৫) বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন ।

৬) বিখ্যাত গায়ক শ্যামল মিত্র এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন ।

৭) রায় বাহাদুর স্যার উপেন্দ্রানাথ ব্রম্ভচারি তিনিও এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন।

লেখা- তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ। সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত।

Tuesday, June 25, 2019

হুগলী জেলার প্রাচীন মন্দির


বাঙালির সভত্যা ও সংস্কৃতির রুপ হল প্রাচীন মন্দির গুলি , হুগলী জেলায় ৪৭৮ টি (২০১৯ অবধি আবিষ্কৃত) ছোট , বড় , মাঝারি প্রকারের প্রাচীন মন্দির রয়েছে । এই সকল মন্দিরের মাধ্যমে হুগলী জেলার গ্রাম্য প্রকৃ্তি সহজেই বোঝা যায়।
আঁটপুরের রাধাগবিন্দজিউর মন্দির 

প্রাচীন মন্দির গুলির প্রধান উপকরন - হুগলী জেলায় পাথর খুব দুর্লভ বলে বেশিরভাগ মন্দির এখানে তৈরি হয়েছে সাধারন ইটের ,তবে কিছু প্রাচীন মন্দির পোড়া মাটির দ্বারাও নির্মিত।

প্রাচীন মন্দিরের প্রকারভেদ - হুগলীতে বিভিন্ন প্রকারের প্রাচীন মন্দির দেখতে পাওয়া যায় যথাক্রমে চালা মন্দির , রত্ন মন্দির , এবং বাংলা মন্দির । চালা মন্দির আবার দুই শ্রেণির চৌচালা এবং আটচালা । বাংলা মন্দির এর প্রকার ভেদও দুই যথা এক বাংলা এবং জোড়া বাংলা ।

বিশিষ্ঠ প্রাচীন মন্দির  - হুগলী জেলায় বিশেষ বিশেষ কিছু মন্দির রয়েছে তবে যাদের সম্পর্কে আলোচনা না করলেই নয় সেগুলি হল -
প্রথম - ১৭২৯ খ্রিঃ তৈরি হওয়া আটচালা মন্দির তারকেশ্বর মন্দির , যার খ্যাতি জগৎজোড়া।

দ্বিতীয় - ১৮১৪ খ্রিঃ তৈরি হওয়া বাঁশবেড়িয়ার রানী শঙ্করী প্রতিষ্ঠিত তে্রচূড়া বিশিষ্ঠ হংশেস্বরী মন্দির

তৃতীয় - চতুর্দশ শতাব্দীর ১৩৯৬ খ্রিঃ তৈরি হওয়া রত্ন মন্দির হল শ্রীরামপুর মাহেশের জগন্নাথ দেবের মন্দির

চতুর্থ -  হংশেস্বরী মন্দিরের পাশেই অনন্ত দেবের মন্দির যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭৯ খ্রিঃ।মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ইটের উপর দেবদেবীর অনেক মূর্তি খোদিত আছে । এই ধরনের বিরাট মন্দির হুগলী জেলার অনেক জায়গায় আছে যেমন বল্লভপুরের বল্লভজিউর মন্দির , খানাকুলে রাধাবল্লভজিউর মন্দির, গুপ্তিপাড়ায় বৃন্দাবনজিউর মন্দির, চন্দনগরের নন্দদুলালের মন্দির , আঁটপুরের রাধাগবিন্দজিউর মন্দির উল্লেখযোগ্য ।

পঞ্চম- হুগলী জেলায় সবচেয় বেশি প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে দেখা যায় শিব মন্দির যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
 দ্বাদশ শিব মন্দির - বাকসা , কোন্নগর, গোপীনগর,মাকালপুর ও বেলমুড়ি ।
সপ্তশিব মন্দির- সিঙ্গুর
পঞ্চশিব মন্দির - ভগবতিপুর
জোড়া শিব মন্দির -সোমসপুর , খানাকুল , জনাই , রাজবলহাট , ভান্ডারহাটি , পানসেওলা , হারিপাল, কাঁকড়াকুলি , জয়নগর , পুইনান , শ্যামপুর , বেড়াগড়ি ও ভাস্তারা ।

ষষ্ঠ - মহানাদের  নচূড়া বেষ্ঠিত ব্রম্ভময়ী দেবীর মন্দির ১২৩৬ খ্রি ঃ তৈরি হয় , মন্দিরে ব্রম্ভময়ী কালিকা দেবী ও চার কোনে চারটি শিবলিঙ্গ ও তিনতলার চূড়ায় হংসেশ্বর শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে ।

সপ্তম - খানাকুলে কানা দ্বারকেশ্বর নদীর তীরের শ্মশানে ঘন্টেশ্বর শিবের মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য । শ্মশানে এরুপ মন্দির আর কোথাও দেখা যায় না ।

অষ্টম - মহানাদের একচূড়া বিশিষ্ঠ সূঊচ্চ লালজিউর মন্দির , এরকম মনুমেন্টের মতো মন্দির হুগলী জেলায় আর কোথাও নেই.১৭৭৩ শকাব্দে মন্দিরটি তৈরি হলেও ভূমিকম্পে ফেটে গিয়ে এর বিগ্রহকে স্থানান্তরিত করা হয় ।

নবম- বঙ্গদেশে গুপ্তিপাড়া এবং ভদ্রেশ্বর ছাড়া আর কোথাও রাম সিতা মন্দির নেই । এই মন্দির গুলিতে রাম, সিতা , লক্ষণ ও হনুমানজীর পুজা হয় । মূর্তিগুলি প্রত্যেকটিই দারুনির্মিত  । মন্দিরের গায়ে রাধা শ্যামের জুগল মূর্তি , গরুড় বাহন , রাবনের যুদ্ধ যাত্রা , এর ছবি অঙ্কিত ।

দশম - বৈচিগ্রামের রাধামাধবের রেখ-দেউলের প্রাচীন মন্দির ১৬৩২ খ্রিঃ তৈরি হয়েছিল । রেখ -দেউল এর অস্তিত্ত বঙ্গদেশে পাওয়া যায় না এটি উড়িষ্যার মন্দিরের স্থাপ্যত্যকীর্তি ।এই মন্দির উড়িষ্যার মন্দিরের অনুকরনে সপ্তরথ এবং সপ্তাঙ্গের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছিল ।

বিশেষ শিল্পকলাযুক্ত মন্দির -  দ্বারহাট্টার রাজরাজেশ্বরের আটচালা মন্দির অন্যতম । টেরাকোটা চিত্র মন্দিরের থামে খিলানে রয়েছে।চিত্রগুলির মধ্যে রামরাবনের যুদ্ধ ও নৌকাবিলাসের চিত্র প্রশংসার দাবি রাখে ।মন্দিরের সামনের দুটি থামের একটিতে দুর্গা, মহাবীর , লক্ষী , ও সরস্বতী এবং অন্যটিতে শ্রীকৃষ্ণ , অর্জুন এবং পর্তুগীজ সৈন্যদের চিত্র নজর কারে ।

প্রাচীনতম মন্দির - হুগলী জেলার প্রাচীনতম মন্দির হল দিগসুই গ্রামের নবরত্ন মন্দির , যার স্থাপনা হয় ১১৯৯ খ্রিঃ ।

লেখা - তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ । সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত ।   

Saturday, June 15, 2019

ফুরফুরা শরীফের আদিকথা


ফুরফুরা শরীফ হুগলী জেলার জাঈীপাড়া থানার অন্তর্গত একটি প্রাচীন স্থান ।ফুরফুরা বঙ্গের মুসলিম সমাজের একটি অন্যতম পীঠস্থান , আরবি শব্দ ফুরফুরা এর অর্থ পরম আনন্দ ।শরীফ প্রতিষ্ঠা তার উথ্থান এবং তার বর্তমান আবস্থান আজকের আলোচ্য বিষয় ।
আবু বাক্কার সাহেবের মাজার(ফুরফুরা শরীফ)

শরীফ প্রতিষ্ঠা - বর্তমানের ফুরফুরা প্রাচীন কালে 'বালিয়া বাসান্তি' নামে পরিচিত ছিল , যা এক 'বাগদি' রাজার রাজধানী ছিল.৭৯৬ হিজরিতে সুলতান গিয়াসুদ্দিন বঙ্গের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুস্বামিদের হারিয়ে তাদের রাজ্য নিজের রাজ্যে অন্তরভুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেন। সেই  সময় সুলতানের আদেশে হজরত শাহী সুফি বালিয়া বাসান্তি আক্রমন করেন এবং বাগদি রাজাকে পরাজিত করেন।পরে এই স্থানে মুসলিম গৌরব স্থাপিত হলে ইহা ফুরফুরা শরীফ নামে  পরিচিত হয়।

ফুরফুরার পীর বংশ - সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাগদাদ থেকে দিল্লিতে সর্বপ্রথম আসেন এই পীর বংশ । সম্রাট তাদের ধর্মপ্রবনতা দেখে এই পীর বংশকে নিষ্কর ৫০০০ বিঘা জমির জায়গীর আয়মা(জমির সত্ত্ব) প্রদান করেন এবং তাদের ফুরফুরায় পাঠান।সেই সময় ফুরফুরায় ৭০০ ঘর মুসলিম বাস করতেন । সিপাহী বিদ্রহের কিছু পূর্বে প্রফেট হযরত মহম্মদের বংশধর পীর মৌলানা আবু বক্কার সাহেব জন্মগ্রহন করেন তার খ্যাতিতেই এই পীর বংশের আসল খ্যাতি । এই পীর বংশে এরপর বহু মহাপুরুষ এবং ভগব্দভক্ত ফকির  জন্মগ্রহন করায় এই স্থান বঙ্গের মুসলিমদের নিকট তীর্থস্থান রুপে পরিগনিত হয় ।

ফুরফুরার প্রাচীন মসজিদ -  ১৩৭৫ খ্রিঃ মুসলিস খান দ্বারা নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদ আজও বহাল তবিয়তে মজুত ।

আনোয়ার কুলির কবর -  হজরত মহম্মদ কবীর যিনি জনসমাজে আনোয়ার কুলি নামে পরিচিত ছিলেন তার কবর এই স্থানে আছে ।তাহার সমাধির দুটি প্রস্তর খন্ডের থেকে জানা যায় তিনি তার সামনে উবু হয়ে বসে দাড়ি  কামাইতেন ।

ফুরফুরার খ্যাতি - অষ্ঠাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এখানে হযরত মৌলানা জোবের শাহ নামক এক যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ বাস করিতেন । সিপাহী বিদ্রহের পূর্বে একবার  'লর্ড ক্লাইভ' ওনার নিকট হইতে পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হবার আশীর্বাদের জন্য পারথনা করেন এবং তিনি 'জয়ী হও' বলে আশীর্বাদ  করেন। তাহার ঈক শিষ্য তাহাকে যখন জিজ্ঞ্যাসা করেন আশীর্বাদের কারন তখন তিনি বলেন যে ধ্যানে তিনি জানতে পেরেছেন যে " ঈশ্বরের লোক বিজয়ের পতাকা লইয়া ইহাদের নিকট এগিয়ে যাচ্ছে সুতরাং তিনি আশীর্বাদ না করিলেও তাহাদের জয় কেউ রধ করতে পারবে না ।"
ফুরফুরার প্রধান খ্যাতি হল হজরত মহম্মদের বংশধর মৌলানা আবু বক্কার সাহেবের জন্মস্থান হিসাবে।তার ধর্মনিষ্ঠা এবং পবিত্র চরিত্রের জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ্য মুসলমান তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন । তিনি গরিব মানুষের জন্য শিক্ষ্যার জন্য মাদ্রাসা এবং চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি করেন । আবু বক্কার সাহেবের খ্যাতির কারনে ফুরুফুরার খ্যাতি জগৎজোড়া ।

ফুরুফুরার রক্ষণাবেক্ষণ - বর্তমানে ফুরফুরা শরীফের সকল প্রকার দায়িত্ব একা হাতে সামলাচ্ছেন ফুরফুরার প্রধান পীর আল্লামা কুতুবুদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব । তবে ফুরফুরার মসজিদ , মাদ্রাসা ও মাজার এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন বিভিন্ন মিশন তবে তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব গ্রহন করেছে মুজাদ্দেদ মিশন।আর্থিক সচ্ছলতা এবং সকল প্রকার সামজিক দায়বদ্ধতার প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন মিশনের সভাপতি পীরজাদা মাওঃ জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব ।

তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস এবং বঙ্গ সমাজ । সুধীর কুমার মিত্র

ছবি- সংগৃহীত ।

Sunday, June 9, 2019

ভারতের প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার


ভারত তথা তৎকালিন বঙ্গে শিক্ষার প্রসার , গরিব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার জন্য বই প্রদানের ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয় ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার। তবে এর পথ মোটেও সহজ ছিল না।
History of Joykrishna library uttarpara
ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার 

গ্রন্থাগার তৈরিতে বাধা - শ্রী দ্বারকানাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায়  উত্তরপাড়ার জমিদার শ্রী জয়কৃষ্ণ মুখার্জি একটি সাধারন গ্রন্থাগার বানানোর সিধান্ত নেন। তার জন্য তিনি ১৮৫৪ খ্রিঃ অগাস্ট মাসে  বর্ধমানের কমিশনার সাহেবের কাছে আবেদন করেন একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার তৈরি করার জন্য ,যার জন্য তিনি জমি ও ৫০০০ টাকা দিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তার আবেদন সরকার বাহাদুর না মঞ্জুর করেন।

গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা  - সরকারের আনুমদন না পাওয়া গেলেও তিনি নিজের উদ্যগে একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার বানানোর সকল দায়ভার গ্রহন করেন।১৮৫৬ খ্রিঃ উত্তরপাড়ার গঙ্গাতীরে এক একর জায়গা নিয়ে গন্থাগার এর কাজ শুরু করা হয়।আনুমানিক ৮৫০০০ টাকা ব্যায়ে ১লা বৈশাখ ১২৬৬ খ্রিঃ ইংরাজি  ১৫ এপ্রিল ১৮৫৯ খ্রিঃ তৎকালীন ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ নিঃশুল্ক  সাধারন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় যা আমাদের কাছে বর্তমান দিনে জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি নামে পরিচিত ।

বই সম্ভার -  প্রথমক্ষেত্রে ৩০০০ বই নিয়ে গ্রন্থাগার এর যাত্রা শুরু হয়, যার বেশির ভাগই ছিল জয়কৃষ্ণ বাবুর ব্যাক্তিগত সংগ্রহের ।কেবল মাত্র ছয় বছরে বই এর সংখা ৩০০০ থেকে বেড়ে ১৫০০০ এ দাড়ায় , যার মধ্যে বাংলা , সংস্কৃত , ইংরাজি, ফরাসি বই সহ অনেক পাণ্ডুলিপি ও ছিল ।

উল্লেখযোগ্য বই - দিগ দর্শন ,সমাচার দর্শন , Friend of India, প্রথম বাংলা ব্যাকারন বই ' A Grammer of the Bengal Language ', সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বাইবেল , সংস্কৃত ভাষার ব্যাকারন  প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।

গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণ - গ্রন্থাগার চালাবার জন্য জয়কৃষ্ণ বাবু তার এস্টেট থেকে ২০০০ টাকার উপবৃত্ত সম্পত্তি এবং ২০০ টাকা সুদের কোম্পানির কাগজ অর্পণ করেন.এর পর জয়কৃষ্ণ বাবুর মৃত্যুর পর ১৯১১ খ্রিঃ একটি charitable trust গঠন করা হয় গ্রন্থাগারের ব্যায়ভার চালাবার জন্য , কিন্তু ইহা থেকে প্রাপ্ত অর্থ খুব কমছিল এবং ১৯৫৭ খ্রিঃ গ্রন্থাগার উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব ও দেওয়া হয় । জমিদারি প্রথা ওঠার পর ১৯৬৩ খ্রি ঃ ২৩শে মে উত্তরপাড়ার নাগরিকগন গ্রন্থাগারের রাষ্ঠ্রিয় করনের জন্য একটি সভা করেন ।১৫ই জুনে ১৯৬৪ খ্রিঃ তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মহাশয় এর উদ্যোগে এই গ্রন্থাগার  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আওতায় নথিভুক্তত্ত হয় ,যার সমস্ত ব্যায়ভার পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রহন করে।

বিখ্যাত মনীষীদের উপস্থিতি - এই গ্রন্থাগার যেমন বহু অমূল্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ তেমনি বহু মনিষীদের পদধূলিতে পূন্যতীর্থ ।রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় , বিপিন চন্দ্র পাল, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , এই ভবনে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। লর্ড ডাফরিন ও লর্ড লরেন্স এই গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।
মাইকেল মধুসুদন দত্ত ও বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ  এই ভবনের দোতলায় কিছুদিন ছিলেন ।

তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ  । সুধীরকুমার মিত্র ।
ছবি -সংগৃহীত । 

Saturday, June 1, 2019

চন্দনগরের জন্মকথা


বানিজ্য,শিল্প,সাহিত্য,সংস্কৃতি পুরনো ঐতিহ্যে ভরা চন্দননগর শহর, তবে এর আসল  পরিচয় ফরাসি উপনিবেশ হিসাবে। আজ আমাদের আলোচনা এই চন্দননগরের ইতিহাস ও জন্মকথা নিয়ে।

চন্দননগেরর স্থাপনা - ১৬৭৩-৭৪ খ্রি ঃ শহরের উত্তর প্রান্তে বোড় কিষনপুর নামক অঞ্চলে প্লেসি নামক এক ব্যাক্তি প্রথম একখণ্ড প্রায় ১০ আরপাঁ ( ফ্রান্সের জমির এক প্রকার মাপ,এক আরপাঁ প্রায় তিন বিঘার সমান ) জমি ৪০১ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন।
ফরাসি কোম্পানির প্রথম অধিনায়ক মঁসিয়ে দোলান্দ  মোঘল বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে ১৬৮৮ খ্রি ঃ ৪০০০ টাকা মুদ্রা বিনিময়ে চন্দননগরের কুঠি স্থাপন এবং তথাকার মালিকত্ব গ্রহন করেন ।
History of Chandanagar,Paris hotel Chandannagr
চন্দননগরে ফরাসি হোটেল  ।

চন্দননগরের নামকরন - গঙ্গাবক্ষ থেকে ধনূকাকৃতি চাঁদের ন্যায় শহরের আকৃতি থাকায় চন্দ্র থেকে এর নাম চন্দননগর এবং তা ছাড়াও চন্দন কাঠের ব্যাবসার প্রচুরতা হওয়ায়   চন্দননগর নামের উৎপত্তি হয় ।ইংরাজি ১৮৯৫ খ্রিঃ কবি বিপ্রদাস রচিত মনসা মঙ্গল ও কবিকঙ্কন চণ্ডী প্রভৄৃতিতে কোন কোন স্থানের উল্লেখ আছে তবে সমস্ত পল্লীকে একত্রিত করে চন্দননগর নাম প্রথম পাওয়া যায় ১৬৯৬ খ্রিঃ ২১ শে নভেম্বর এখানকার কতৃপক্ষ মারতিন,দোলান্দ, এবং পেলএ স্বাক্ষরিত তখনকার প্যারিস্থ ডিরেক্টরকে লিখিত এক পত্রে ।
chandannagr church
চন্দননগর চার্চের স্কেচ

চন্দননগরের প্রথম দূর্গ -  ১৬৯৬-৯৭ খ্রিঃ চন্দননগরের সুপ্রসিদ্ধ্য আরলাঁ  দূর্গের স্থাপনা হয় ।  ইহা মধ্যস্থলেই ছিল এবং হুগলীর ওলন্দাজ দূর্গ ও কলিকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গর থেকেও অধিক মজবুত ও জমকালো ছিল ।

ব্রিটিশদের চন্দননগর আক্রমন -  ১৭৫৭ খ্রিঃ ইংরেজদের সাথে ফরাসিদের  যুদ্ধ হয় এবং চন্দননগর ব্রিটিশদের হস্তগত হয় ।এবং লর্ড ক্লাইভ এর নির্দেশে লুটপাট স্থাপত্য ভাঙ্গার কাজ হয় এবং দূর্গের তলদেশ পর্যন্ত তুলেদেওয়ার আদেশ দেওয়া হয় ।

চন্দননগর পুনঃউদ্ধার -  চন্দননগর ১৭৬৭ খ্রিঃ অবধি ব্রিটিশ দের অধিকারে থাকে এবং ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চন্দননগর ফরাসিরা পুনঃউদ্ধার করেন, এবং ১৯৫০ খ্রিঃ ২রা মে পর্যন্ত ফরাসিদের অধিকারে থাকে। 

তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ ।
ছবি- সংগ্রহীত (pics collected)

Thursday, May 23, 2019

প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান


বঙ্গ অধিকার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাবসা ,বানিজ্য ,শাসনতন্ত্রর উপর নজর দেওয়ার সাথে সাথে নজর দেন ধর্মসম্প্রসারন ,শিক্ষা ও স্থাপত্য সম্প্রসারনে ।
প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠানের বাসস্থান

প্রথম বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন - ১৮২০ খ্রিঃ ২৮ ডিসেম্বর শ্রীরামপুরের গঙ্গাতীরে বাংলা ভাষায়  খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন ও ধর্মান্তকরন পক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় , যার প্রধান উদক্ত্যা ছিলেন উইলিয়াম কেরি । গঙ্গাতী্রে এই অনুষ্ঠান হয় বলে কেউ কেউ মনে করেন গঙ্গার আধ্যাত্মিক সক্তির কারনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় ,তবে উইলিয়াম কেরি জনতাকে উল্লেখ করে একটি বহু সমলোচিত বক্তৃতা দেন " গঙ্গার পবিত্রতা আমরা স্বীকার করিনা , উহার জলকে আমরা সাধারন জল বলিয়াই জানি ।" 

প্রথম বাঙালি খ্রীষ্ঠান - উক্ত দিন কৃষ্ণদাস পাল নামক এক জনৈক সুত্রধর বাংলাদেশে  প্রথম  খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন, সঙ্গে তাহার স্ত্রী , কন্যা এবং গোপাল নামক এক ব্যাক্তি ওই একই স্থানে  খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।

বঙ্গীয় খ্রীষ্ঠানদের উপর হিন্দুদের আক্রোশ - উক্ত ঘটনায় গোঁড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন এর সৃষ্টি হয় ,  ঘটনার পরের দিনই তারা প্রায় দুশো জন এর একটি মিছিল নিয়ে কৃষ্ণদাসের বাড়ীতে চড়াও হয় এবং কৃষ্ণদাস ,তার স্ত্রী ,কন্যা ও গোপালকে বিচারক এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।

ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান -   দিনেমার বিচারক ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান করেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করিয়া নিঃশর্ত মুক্তি দান করেন ।

ধর্মান্তরনকারীদের প্রাণনাশের চেষ্টা - রায়দান শেষ হলেও তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকার কারনে পাহারার সহিত তাদের বাড়ী পাঠান হলেও , গোঁড়া হিন্দুরা তাদের উপর চড়াও হয়।পাহারাদারদের তৎপরতায় দিনেমার গভর্নরের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের শ্রীরামপুর মিশনারি হাউসে থাকার এবং সশত্র পাহারার ব্যাবস্থা করেদেন।

প্রথম মুসলিমের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন -  ১৮০১ খ্রিঃ শ্রীরামপুরে পিরু নামক এক জনৈক মুসলিম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন 

প্রথম ব্রাম্ভনের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন -  ১৮০৩ খ্রিঃ কৃষ্ণপ্রসাদ নামক জনৈক ব্রাম্ভন খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন , এবং স্বয়ং ওয়ার্ড সাহেব এবং উইলিয়াম কেরি তার ধর্মান্তরনের সময় উপস্থিত ছিলেন ।

প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ - ১৮০৩ খিঃ শ্রীরামপুরে প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণদাস পালের মেয়ের সহিত কৃষ্ণপ্রসাদের । বিবাহের যাবতীয় অনুষ্ঠান বাংলায় সম্পন্ন হয় , বর কন্যা দুজনেই প্রতিঞ্জাবদ্ধে স্বাক্ষর করেন এবং সাক্ষী হিসাবে উইলিয়াম কেরি এবং মার্শম্যান স্বাক্ষর করেন। বিবাহের পর একটি ভোজ অনুষ্ঠিত হয় যাহাতে মিশানরিগন ও বাঙালি  খ্রিষ্ঠানরা এক সঙ্গে ভোজ গ্রহন করেন । ইংরেজদের সাথে বাঙালিদের এই প্রথম ভোজ হয় ।

প্রথম বাঙালি সামাধি - ১৮০১ খ্রিঃ গোকুল দাস প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান দেহত্যাগ করেন এবং তাহার সামাধি তৈরি হয়।

তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসামাজ । সুধীর কুমার মিত্র ।
ছবি- সংগৃহীত ।

Wednesday, May 15, 2019

কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস


কালীঘাট একটি বহু পুরানো হিন্দু পীঠস্থান , এটি একটি সতীপীঠ নাকি নয় তা নিয়ে ভিন্ন মত প্রচারিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস ।
কালীঘাট মন্দির এর ইতিহাস
পুরানো কালীঘাট মন্দির এর চিত্র 

শিলাপ্রাপ্তি - জনমতে প্রচারিত ব্রম্ভানন্দ গিরি এবং আত্মারাম ব্রম্ভ্যচারী নামক দুই সন্যাসি একটি সতী মায়ের ডান পায়ের আঙ্গুল পান যা তারা একটি শিলাখণ্ডে মায়ের রুপদান করেন ।
কথিত একদিন হুগলী নদীবক্ষে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় যাতায়াতের সময় আলোকবিন্দু দেখে আকৄষ্ঠ হয়ে ঐ পাথর খুঁজে পান ।
পুরানো কালীঘাট মন্দির এর হাতে আঁকা ছবি 

পুরানো মন্দির স্থাপন - ১৭৫২ খ্রিঃ মনোহর ঘোষাল ও গোকুল হালদার এর প্রদ্যত্ত জমিতে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় প্রাপ্ত শিলাখণ্ড সহযোগে একটি কালী মন্দির স্থাপনা করেন যা আজকের দিনে কালীঘাট নামে প্রচলিত ।

নূতন মন্দির স্থাপন - ১৮০৯ খ্রিঃ বড়িশার জমিদার শিবদাস রায়চৌধুরী এবং তার পুত্র রামলাল রায়চৌধুরী এবং ভাতুস্পুত্র লক্ষী্কান্ত রায়চৌধুরী এর কতৃক নূতন মন্দির এর স্থাপনা করা হয় ।

মন্দির এর আয়তন - ১ বিঘা ১১ কাটা ৩ ছটাক মূল আয়তন যুক্ত জমির পরিধির মধ্যে প্রকৃ্ত মন্দির এর আয়তন ৮ কাটা ।

মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ঠ -  বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশিল্পে তৈরি ৯০ ফুট উঁচু মন্দির যা ৮বছর সময়কালে ,৩০০০০ টাকা ব্যায়ে প্রস্তুত  করা হয় ।

নাট মন্দির - ১৮৩৫ খ্রিঃ জমিদার কৃষ্ণনাথ  রায়চৌধুরী কতৃক সর্বসাধারণের জন্য প্রস্তুত করা হয় এই নাটমন্দির।

পূজিত দেবদেবী - মূল মন্দির কালিকা দেবীর পুজা হলেও আরও অনেক মন্দিরে অনেক দেবদেবীর পুজা করা হয় যথাক্রমে রাধা-কৄষ্ন , শিব , ষষ্ঠী ,শিতলা , মঙ্গল চণ্ডী প্রভৃতি ।

বিঃদ্রঃ - কালীঘাট একটি সতীপীঠ কিনা তা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও জনমতে প্রচরিত সতীর ডান পায়ের আঙ্গুল পাওয়ার কারনে এটিকে একটি সতীপীঠ মনে করা যেতেই পারে ,তবে বিপ্রদাস রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে এর উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য - কলিকাতা সেকালের ও একালের হরিসাধন মুখোপাধ্যায় ।
ছবি -সংগৃহীত