ভারতের প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার
ভারত তথা তৎকালিন বঙ্গে শিক্ষার প্রসার , গরিব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার জন্য বই প্রদানের ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয় ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার। তবে এর পথ মোটেও সহজ ছিল না।
গ্রন্থাগার তৈরিতে বাধা - শ্রী দ্বারকানাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় উত্তরপাড়ার জমিদার শ্রী জয়কৃষ্ণ মুখার্জি একটি সাধারন গ্রন্থাগার বানানোর সিধান্ত নেন। তার জন্য তিনি ১৮৫৪ খ্রিঃ অগাস্ট মাসে বর্ধমানের কমিশনার সাহেবের কাছে আবেদন করেন একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার তৈরি করার জন্য ,যার জন্য তিনি জমি ও ৫০০০ টাকা দিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তার আবেদন সরকার বাহাদুর না মঞ্জুর করেন।
গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা - সরকারের আনুমদন না পাওয়া গেলেও তিনি নিজের উদ্যগে একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার বানানোর সকল দায়ভার গ্রহন করেন।১৮৫৬ খ্রিঃ উত্তরপাড়ার গঙ্গাতীরে এক একর জায়গা নিয়ে গন্থাগার এর কাজ শুরু করা হয়।আনুমানিক ৮৫০০০ টাকা ব্যায়ে ১লা বৈশাখ ১২৬৬ খ্রিঃ ইংরাজি ১৫ এপ্রিল ১৮৫৯ খ্রিঃ তৎকালীন ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ নিঃশুল্ক সাধারন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় যা আমাদের কাছে বর্তমান দিনে জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি নামে পরিচিত ।
বই সম্ভার - প্রথমক্ষেত্রে ৩০০০ বই নিয়ে গ্রন্থাগার এর যাত্রা শুরু হয়, যার বেশির ভাগই ছিল জয়কৃষ্ণ বাবুর ব্যাক্তিগত সংগ্রহের ।কেবল মাত্র ছয় বছরে বই এর সংখা ৩০০০ থেকে বেড়ে ১৫০০০ এ দাড়ায় , যার মধ্যে বাংলা , সংস্কৃত , ইংরাজি, ফরাসি বই সহ অনেক পাণ্ডুলিপি ও ছিল ।
উল্লেখযোগ্য বই - দিগ দর্শন ,সমাচার দর্শন , Friend of India, প্রথম বাংলা ব্যাকারন বই ' A Grammer of the Bengal Language ', সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বাইবেল , সংস্কৃত ভাষার ব্যাকারন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।
গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণ - গ্রন্থাগার চালাবার জন্য জয়কৃষ্ণ বাবু তার এস্টেট থেকে ২০০০ টাকার উপবৃত্ত সম্পত্তি এবং ২০০ টাকা সুদের কোম্পানির কাগজ অর্পণ করেন.এর পর জয়কৃষ্ণ বাবুর মৃত্যুর পর ১৯১১ খ্রিঃ একটি charitable trust গঠন করা হয় গ্রন্থাগারের ব্যায়ভার চালাবার জন্য , কিন্তু ইহা থেকে প্রাপ্ত অর্থ খুব কমছিল এবং ১৯৫৭ খ্রিঃ গ্রন্থাগার উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব ও দেওয়া হয় । জমিদারি প্রথা ওঠার পর ১৯৬৩ খ্রি ঃ ২৩শে মে উত্তরপাড়ার নাগরিকগন গ্রন্থাগারের রাষ্ঠ্রিয় করনের জন্য একটি সভা করেন ।১৫ই জুনে ১৯৬৪ খ্রিঃ তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মহাশয় এর উদ্যোগে এই গ্রন্থাগার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আওতায় নথিভুক্তত্ত হয় ,যার সমস্ত ব্যায়ভার পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রহন করে।
বিখ্যাত মনীষীদের উপস্থিতি - এই গ্রন্থাগার যেমন বহু অমূল্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ তেমনি বহু মনিষীদের পদধূলিতে পূন্যতীর্থ ।রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় , বিপিন চন্দ্র পাল, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , এই ভবনে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। লর্ড ডাফরিন ও লর্ড লরেন্স এই গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।
মাইকেল মধুসুদন দত্ত ও বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ এই ভবনের দোতলায় কিছুদিন ছিলেন ।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ । সুধীরকুমার মিত্র ।
ছবি -সংগৃহীত ।
![]() |
| ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার |
গ্রন্থাগার তৈরিতে বাধা - শ্রী দ্বারকানাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় উত্তরপাড়ার জমিদার শ্রী জয়কৃষ্ণ মুখার্জি একটি সাধারন গ্রন্থাগার বানানোর সিধান্ত নেন। তার জন্য তিনি ১৮৫৪ খ্রিঃ অগাস্ট মাসে বর্ধমানের কমিশনার সাহেবের কাছে আবেদন করেন একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার তৈরি করার জন্য ,যার জন্য তিনি জমি ও ৫০০০ টাকা দিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তার আবেদন সরকার বাহাদুর না মঞ্জুর করেন।
গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা - সরকারের আনুমদন না পাওয়া গেলেও তিনি নিজের উদ্যগে একটি নিঃশুল্ক গ্রন্থাগার বানানোর সকল দায়ভার গ্রহন করেন।১৮৫৬ খ্রিঃ উত্তরপাড়ার গঙ্গাতীরে এক একর জায়গা নিয়ে গন্থাগার এর কাজ শুরু করা হয়।আনুমানিক ৮৫০০০ টাকা ব্যায়ে ১লা বৈশাখ ১২৬৬ খ্রিঃ ইংরাজি ১৫ এপ্রিল ১৮৫৯ খ্রিঃ তৎকালীন ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ নিঃশুল্ক সাধারন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় যা আমাদের কাছে বর্তমান দিনে জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি নামে পরিচিত ।
বই সম্ভার - প্রথমক্ষেত্রে ৩০০০ বই নিয়ে গ্রন্থাগার এর যাত্রা শুরু হয়, যার বেশির ভাগই ছিল জয়কৃষ্ণ বাবুর ব্যাক্তিগত সংগ্রহের ।কেবল মাত্র ছয় বছরে বই এর সংখা ৩০০০ থেকে বেড়ে ১৫০০০ এ দাড়ায় , যার মধ্যে বাংলা , সংস্কৃত , ইংরাজি, ফরাসি বই সহ অনেক পাণ্ডুলিপি ও ছিল ।
উল্লেখযোগ্য বই - দিগ দর্শন ,সমাচার দর্শন , Friend of India, প্রথম বাংলা ব্যাকারন বই ' A Grammer of the Bengal Language ', সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বাইবেল , সংস্কৃত ভাষার ব্যাকারন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।
গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণ - গ্রন্থাগার চালাবার জন্য জয়কৃষ্ণ বাবু তার এস্টেট থেকে ২০০০ টাকার উপবৃত্ত সম্পত্তি এবং ২০০ টাকা সুদের কোম্পানির কাগজ অর্পণ করেন.এর পর জয়কৃষ্ণ বাবুর মৃত্যুর পর ১৯১১ খ্রিঃ একটি charitable trust গঠন করা হয় গ্রন্থাগারের ব্যায়ভার চালাবার জন্য , কিন্তু ইহা থেকে প্রাপ্ত অর্থ খুব কমছিল এবং ১৯৫৭ খ্রিঃ গ্রন্থাগার উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব ও দেওয়া হয় । জমিদারি প্রথা ওঠার পর ১৯৬৩ খ্রি ঃ ২৩শে মে উত্তরপাড়ার নাগরিকগন গ্রন্থাগারের রাষ্ঠ্রিয় করনের জন্য একটি সভা করেন ।১৫ই জুনে ১৯৬৪ খ্রিঃ তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মহাশয় এর উদ্যোগে এই গ্রন্থাগার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আওতায় নথিভুক্তত্ত হয় ,যার সমস্ত ব্যায়ভার পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রহন করে।
বিখ্যাত মনীষীদের উপস্থিতি - এই গ্রন্থাগার যেমন বহু অমূল্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ তেমনি বহু মনিষীদের পদধূলিতে পূন্যতীর্থ ।রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় , বিপিন চন্দ্র পাল, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , এই ভবনে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। লর্ড ডাফরিন ও লর্ড লরেন্স এই গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।
মাইকেল মধুসুদন দত্ত ও বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ এই ভবনের দোতলায় কিছুদিন ছিলেন ।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ । সুধীরকুমার মিত্র ।
ছবি -সংগৃহীত ।

0 comments:
Post a Comment