We are dedicated to all those people who change the world a better place instead of all challenges. This blog is a history based blog, here we talk about the historical facts, Historical persons life history, Culture& heritage of India, and their present-day situation. And only one thing we want to say you Rise Above Impossible.

Search This Blog

Thursday, May 23, 2019

প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান


বঙ্গ অধিকার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাবসা ,বানিজ্য ,শাসনতন্ত্রর উপর নজর দেওয়ার সাথে সাথে নজর দেন ধর্মসম্প্রসারন ,শিক্ষা ও স্থাপত্য সম্প্রসারনে ।
প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠানের বাসস্থান

প্রথম বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন - ১৮২০ খ্রিঃ ২৮ ডিসেম্বর শ্রীরামপুরের গঙ্গাতীরে বাংলা ভাষায়  খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন ও ধর্মান্তকরন পক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় , যার প্রধান উদক্ত্যা ছিলেন উইলিয়াম কেরি । গঙ্গাতী্রে এই অনুষ্ঠান হয় বলে কেউ কেউ মনে করেন গঙ্গার আধ্যাত্মিক সক্তির কারনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় ,তবে উইলিয়াম কেরি জনতাকে উল্লেখ করে একটি বহু সমলোচিত বক্তৃতা দেন " গঙ্গার পবিত্রতা আমরা স্বীকার করিনা , উহার জলকে আমরা সাধারন জল বলিয়াই জানি ।" 

প্রথম বাঙালি খ্রীষ্ঠান - উক্ত দিন কৃষ্ণদাস পাল নামক এক জনৈক সুত্রধর বাংলাদেশে  প্রথম  খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন, সঙ্গে তাহার স্ত্রী , কন্যা এবং গোপাল নামক এক ব্যাক্তি ওই একই স্থানে  খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।

বঙ্গীয় খ্রীষ্ঠানদের উপর হিন্দুদের আক্রোশ - উক্ত ঘটনায় গোঁড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন এর সৃষ্টি হয় ,  ঘটনার পরের দিনই তারা প্রায় দুশো জন এর একটি মিছিল নিয়ে কৃষ্ণদাসের বাড়ীতে চড়াও হয় এবং কৃষ্ণদাস ,তার স্ত্রী ,কন্যা ও গোপালকে বিচারক এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।

ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান -   দিনেমার বিচারক ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান করেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করিয়া নিঃশর্ত মুক্তি দান করেন ।

ধর্মান্তরনকারীদের প্রাণনাশের চেষ্টা - রায়দান শেষ হলেও তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকার কারনে পাহারার সহিত তাদের বাড়ী পাঠান হলেও , গোঁড়া হিন্দুরা তাদের উপর চড়াও হয়।পাহারাদারদের তৎপরতায় দিনেমার গভর্নরের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের শ্রীরামপুর মিশনারি হাউসে থাকার এবং সশত্র পাহারার ব্যাবস্থা করেদেন।

প্রথম মুসলিমের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন -  ১৮০১ খ্রিঃ শ্রীরামপুরে পিরু নামক এক জনৈক মুসলিম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন 

প্রথম ব্রাম্ভনের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন -  ১৮০৩ খ্রিঃ কৃষ্ণপ্রসাদ নামক জনৈক ব্রাম্ভন খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন , এবং স্বয়ং ওয়ার্ড সাহেব এবং উইলিয়াম কেরি তার ধর্মান্তরনের সময় উপস্থিত ছিলেন ।

প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ - ১৮০৩ খিঃ শ্রীরামপুরে প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণদাস পালের মেয়ের সহিত কৃষ্ণপ্রসাদের । বিবাহের যাবতীয় অনুষ্ঠান বাংলায় সম্পন্ন হয় , বর কন্যা দুজনেই প্রতিঞ্জাবদ্ধে স্বাক্ষর করেন এবং সাক্ষী হিসাবে উইলিয়াম কেরি এবং মার্শম্যান স্বাক্ষর করেন। বিবাহের পর একটি ভোজ অনুষ্ঠিত হয় যাহাতে মিশানরিগন ও বাঙালি  খ্রিষ্ঠানরা এক সঙ্গে ভোজ গ্রহন করেন । ইংরেজদের সাথে বাঙালিদের এই প্রথম ভোজ হয় ।

প্রথম বাঙালি সামাধি - ১৮০১ খ্রিঃ গোকুল দাস প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান দেহত্যাগ করেন এবং তাহার সামাধি তৈরি হয়।

তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসামাজ । সুধীর কুমার মিত্র ।
ছবি- সংগৃহীত ।

Wednesday, May 15, 2019

কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস


কালীঘাট একটি বহু পুরানো হিন্দু পীঠস্থান , এটি একটি সতীপীঠ নাকি নয় তা নিয়ে ভিন্ন মত প্রচারিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস ।
কালীঘাট মন্দির এর ইতিহাস
পুরানো কালীঘাট মন্দির এর চিত্র 

শিলাপ্রাপ্তি - জনমতে প্রচারিত ব্রম্ভানন্দ গিরি এবং আত্মারাম ব্রম্ভ্যচারী নামক দুই সন্যাসি একটি সতী মায়ের ডান পায়ের আঙ্গুল পান যা তারা একটি শিলাখণ্ডে মায়ের রুপদান করেন ।
কথিত একদিন হুগলী নদীবক্ষে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় যাতায়াতের সময় আলোকবিন্দু দেখে আকৄষ্ঠ হয়ে ঐ পাথর খুঁজে পান ।
পুরানো কালীঘাট মন্দির এর হাতে আঁকা ছবি 

পুরানো মন্দির স্থাপন - ১৭৫২ খ্রিঃ মনোহর ঘোষাল ও গোকুল হালদার এর প্রদ্যত্ত জমিতে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় প্রাপ্ত শিলাখণ্ড সহযোগে একটি কালী মন্দির স্থাপনা করেন যা আজকের দিনে কালীঘাট নামে প্রচলিত ।

নূতন মন্দির স্থাপন - ১৮০৯ খ্রিঃ বড়িশার জমিদার শিবদাস রায়চৌধুরী এবং তার পুত্র রামলাল রায়চৌধুরী এবং ভাতুস্পুত্র লক্ষী্কান্ত রায়চৌধুরী এর কতৃক নূতন মন্দির এর স্থাপনা করা হয় ।

মন্দির এর আয়তন - ১ বিঘা ১১ কাটা ৩ ছটাক মূল আয়তন যুক্ত জমির পরিধির মধ্যে প্রকৃ্ত মন্দির এর আয়তন ৮ কাটা ।

মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ঠ -  বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশিল্পে তৈরি ৯০ ফুট উঁচু মন্দির যা ৮বছর সময়কালে ,৩০০০০ টাকা ব্যায়ে প্রস্তুত  করা হয় ।

নাট মন্দির - ১৮৩৫ খ্রিঃ জমিদার কৃষ্ণনাথ  রায়চৌধুরী কতৃক সর্বসাধারণের জন্য প্রস্তুত করা হয় এই নাটমন্দির।

পূজিত দেবদেবী - মূল মন্দির কালিকা দেবীর পুজা হলেও আরও অনেক মন্দিরে অনেক দেবদেবীর পুজা করা হয় যথাক্রমে রাধা-কৄষ্ন , শিব , ষষ্ঠী ,শিতলা , মঙ্গল চণ্ডী প্রভৃতি ।

বিঃদ্রঃ - কালীঘাট একটি সতীপীঠ কিনা তা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও জনমতে প্রচরিত সতীর ডান পায়ের আঙ্গুল পাওয়ার কারনে এটিকে একটি সতীপীঠ মনে করা যেতেই পারে ,তবে বিপ্রদাস রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে এর উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য - কলিকাতা সেকালের ও একালের হরিসাধন মুখোপাধ্যায় ।
ছবি -সংগৃহীত 

Saturday, May 4, 2019

হুগলী জেলার জন্মকথা


শাসনতান্ত্রিক প্রয়জনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকারের নেতৃত্বে ১৭৯৫ খ্রিঃ বর্ধমান জেলার দক্ষিনাংশ নিয়ে তৈরি হয় হুগলী জেলা।সেই হুগলী জেলা অবশ্য আজকের প্ররিপ্রেক্ষীতে অনেক বড় ছিল।
 হুগলী জেলার ইতিহাস,history of Hooghly.Birth of Hooghly
হুগলী জেলা সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের পটভূমি  

পুরানো হুগলী জেলার আয়তন - সেই সময় মহকুমার কোন ধারনা ছিল না, কয়েকটি থানার সমষ্ঠিকে জেলা মনে করা হত। ১৭৯৫ খ্রিঃ হুগলী জেলায় ১৩টি থানা অর্ন্তভুক্ত ছিল যা হল ১) হুগলী, ২) বাঁশবেড়িয়া , ৩) পান্ডুয়া, ৪) বেনীপুর, ৫) ধানিয়াখালি , ৬) হারিপাল, ৭) রাজবলহাট ,৮)জাহানাবাদ ,৯) দেওয়ানগঞ্জ, ১০) চন্দ্রকোনা ,১১) ঘাটাল, ১২) বাগনান ,১৩) আমতা ।
পরিবর্তিত থানা  - পরবর্তীতে কিছু থানার নাম পরিবর্তিত হয় , ১) বাঁশবেড়িয়ার বদলে মগরা ২) বেনীপুরের বদলে বলাগড় , ৩) রাজবলহাট এর বদলে জাঙ্গিপাড়া , ৪) জাহানাবাদ এর বদলে আরামবাগ ,৫) দেওয়ানগঞ্জের বদলে গোঘাট।

শ্রীরামপুরের অন্তর্ভুক্তি - ১৮৪৫ খ্রিঃ ২২শে ফেব্রুয়ারি ডেনমার্কের রাজার সহিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর মধ্যে এক বন্দোবস্ত হলে ফেড্রিক্স নগর আজকের শ্রীরামপুর  হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয় ।

চন্দনগরের অন্তরভুক্তি-  ভারত স্বাধীন হবার পর ১৯৫০ খ্রিঃ ২রা মে ফরাসি সরকার তার সমস্ত অধিকার ত্যাগ করে এবং চন্দনগর স্বাধীন ভারত তথা হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয়।

হুগলী জেলার নামকরন - ১৫৩৭ খ্রিঃ পর্তুগীজরা ভাগীরথী তীরে একটি ছোট বন্দর গড়ে তোলেন এবং তার
পর্তুগীজ নামকরন হয় "Porto Pequeno" , এই নাম থেকে হুগলী নাম কিভাবে হল ? পর্তুগীজ ঐতিহাসিকরা বলেন ঐ জনপদের পাশের নদীতে অনেক হোগলা গাছ জন্মাত সেই থেকেই হুগলী নামকরন। তবে এই নামকরনের পিছনে পর্তুগীজদের কোন হাত ছিল না , বিপ্রদাসের মনসার ভাসান পুঁথিতে(১৪৯৫  খ্রিঃ ) হুগলী নাম দেখা যায় ।

হুগলী জেলার স্থাপত্য -   ১৫৯৯ খ্রিঃ পূর্ব ভারতের প্রথম কনভেন্ট ও গির্জা গরে ওঠে হুগলীর বালিতে ।সম্রাট শাহাজাহান নানা কারনে পর্তুগীজদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন ১৬৩২ খ্রিঃ তার নির্দেশে কাশিম খাঁ হুগলী অভিজান করেন এবং  পর্তুগীজদের  হারিয়ে সব স্থাপত্য ধ্বংস করেন। পরে পর্তুগীজদের  সম্রাট এর দরবার এ পেশ করা হলে কিছু অজ্ঞাত কারনে শাস্তির বদলে পর্তুগীজদের  ব্যান্ডেলে ৭৭৭ বিঘা জমি দান করা হয় । প্রাপ্ত জমিতে গোমেজ জি সেটোর চেষ্টায় ১৬৬১ খ্রিঃ ব্যান্ডেলে কনভেন্ট ও গির্জা পুনর্নির্মিত হয় ।

হুগলী জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি - বাংলা অক্ষর সমন্বিত প্রথম ছাপাখানা আন্ড্রুস প্রেস হুগলী শহরে ১৭৭৮  খ্রিঃ স্থাপিত হলে চার্লস উলকিন্সন তত্যাবধানে ন্যাথিব্রেলবাসী হ্যালহেড লিখিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ "A Grammer of the Bengal language" মুদ্রিত হয়েছিল। শ্রীরামপুর মিশন প্রেস এর সাহায্যে শ্রীরামপুর থেকে প্রথম বাংলা সাময়িক পত্রিকা দিগদর্শন (এপ্রিল ১৮১৮ খ্রিঃ) ,প্রথম বাংলা সংবাদ পত্র সামাচার দর্পণ (২৩শে মে ১৮১৮ খ্রিঃ) ,এবং ইংরাজি সংবাদ পত্র  Friend Of India ( ৩০শে এপ্রিল ১৮১৮  খ্রিঃ) প্রকাশিত হয়েছিল ।

হুগলী জেলার ভাগ- ১৮৭২ খ্রিঃ হুগলী জেলাকে ভাগ করে সৃষ্টি হয় হাওড়া এবং মেদিনীপুর জেলা।প্রসঙ্গত হুগলী জেলার বরেন্য সন্তান বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রাম হুগলী থেকে মেদিনীপুর এ অন্তরভুক্ত হয় এবং ৫২ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর এর জন্মস্থান জেলান্তরিত হয়।

তথ্য- হুগলী জেলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি ।
ছবি- সংগৃহীত ।