হুগলী জেলার প্রাচীন মন্দির
বাঙালির সভত্যা ও সংস্কৃতির রুপ হল প্রাচীন মন্দির গুলি , হুগলী জেলায় ৪৭৮ টি (২০১৯ অবধি আবিষ্কৃত) ছোট , বড় , মাঝারি প্রকারের প্রাচীন মন্দির রয়েছে । এই সকল মন্দিরের মাধ্যমে হুগলী জেলার গ্রাম্য প্রকৃ্তি সহজেই বোঝা যায়।
প্রাচীন মন্দির গুলির প্রধান উপকরন - হুগলী জেলায় পাথর খুব দুর্লভ বলে বেশিরভাগ মন্দির এখানে তৈরি হয়েছে সাধারন ইটের ,তবে কিছু প্রাচীন মন্দির পোড়া মাটির দ্বারাও নির্মিত।
প্রাচীন মন্দিরের প্রকারভেদ - হুগলীতে বিভিন্ন প্রকারের প্রাচীন মন্দির দেখতে পাওয়া যায় যথাক্রমে চালা মন্দির , রত্ন মন্দির , এবং বাংলা মন্দির । চালা মন্দির আবার দুই শ্রেণির চৌচালা এবং আটচালা । বাংলা মন্দির এর প্রকার ভেদও দুই যথা এক বাংলা এবং জোড়া বাংলা ।
বিশিষ্ঠ প্রাচীন মন্দির - হুগলী জেলায় বিশেষ বিশেষ কিছু মন্দির রয়েছে তবে যাদের সম্পর্কে আলোচনা না করলেই নয় সেগুলি হল -
প্রথম - ১৭২৯ খ্রিঃ তৈরি হওয়া আটচালা মন্দির তারকেশ্বর মন্দির , যার খ্যাতি জগৎজোড়া।
দ্বিতীয় - ১৮১৪ খ্রিঃ তৈরি হওয়া বাঁশবেড়িয়ার রানী শঙ্করী প্রতিষ্ঠিত তে্রচূড়া বিশিষ্ঠ হংশেস্বরী মন্দির ।
তৃতীয় - চতুর্দশ শতাব্দীর ১৩৯৬ খ্রিঃ তৈরি হওয়া রত্ন মন্দির হল শ্রীরামপুর মাহেশের জগন্নাথ দেবের মন্দির ।
চতুর্থ - হংশেস্বরী মন্দিরের পাশেই অনন্ত দেবের মন্দির যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭৯ খ্রিঃ।মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ইটের উপর দেবদেবীর অনেক মূর্তি খোদিত আছে । এই ধরনের বিরাট মন্দির হুগলী জেলার অনেক জায়গায় আছে যেমন বল্লভপুরের বল্লভজিউর মন্দির , খানাকুলে রাধাবল্লভজিউর মন্দির, গুপ্তিপাড়ায় বৃন্দাবনজিউর মন্দির, চন্দনগরের নন্দদুলালের মন্দির , আঁটপুরের রাধাগবিন্দজিউর মন্দির উল্লেখযোগ্য ।
পঞ্চম- হুগলী জেলায় সবচেয় বেশি প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে দেখা যায় শিব মন্দির যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
দ্বাদশ শিব মন্দির - বাকসা , কোন্নগর, গোপীনগর,মাকালপুর ও বেলমুড়ি ।
সপ্তশিব মন্দির- সিঙ্গুর
পঞ্চশিব মন্দির - ভগবতিপুর
জোড়া শিব মন্দির -সোমসপুর , খানাকুল , জনাই , রাজবলহাট , ভান্ডারহাটি , পানসেওলা , হারিপাল, কাঁকড়াকুলি , জয়নগর , পুইনান , শ্যামপুর , বেড়াগড়ি ও ভাস্তারা ।
ষষ্ঠ - মহানাদের নচূড়া বেষ্ঠিত ব্রম্ভময়ী দেবীর মন্দির ১২৩৬ খ্রি ঃ তৈরি হয় , মন্দিরে ব্রম্ভময়ী কালিকা দেবী ও চার কোনে চারটি শিবলিঙ্গ ও তিনতলার চূড়ায় হংসেশ্বর শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে ।
সপ্তম - খানাকুলে কানা দ্বারকেশ্বর নদীর তীরের শ্মশানে ঘন্টেশ্বর শিবের মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য । শ্মশানে এরুপ মন্দির আর কোথাও দেখা যায় না ।
অষ্টম - মহানাদের একচূড়া বিশিষ্ঠ সূঊচ্চ লালজিউর মন্দির , এরকম মনুমেন্টের মতো মন্দির হুগলী জেলায় আর কোথাও নেই.১৭৭৩ শকাব্দে মন্দিরটি তৈরি হলেও ভূমিকম্পে ফেটে গিয়ে এর বিগ্রহকে স্থানান্তরিত করা হয় ।
নবম- বঙ্গদেশে গুপ্তিপাড়া এবং ভদ্রেশ্বর ছাড়া আর কোথাও রাম সিতা মন্দির নেই । এই মন্দির গুলিতে রাম, সিতা , লক্ষণ ও হনুমানজীর পুজা হয় । মূর্তিগুলি প্রত্যেকটিই দারুনির্মিত । মন্দিরের গায়ে রাধা শ্যামের জুগল মূর্তি , গরুড় বাহন , রাবনের যুদ্ধ যাত্রা , এর ছবি অঙ্কিত ।
দশম - বৈচিগ্রামের রাধামাধবের রেখ-দেউলের প্রাচীন মন্দির ১৬৩২ খ্রিঃ তৈরি হয়েছিল । রেখ -দেউল এর অস্তিত্ত বঙ্গদেশে পাওয়া যায় না এটি উড়িষ্যার মন্দিরের স্থাপ্যত্যকীর্তি ।এই মন্দির উড়িষ্যার মন্দিরের অনুকরনে সপ্তরথ এবং সপ্তাঙ্গের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছিল ।
বিশেষ শিল্পকলাযুক্ত মন্দির - দ্বারহাট্টার রাজরাজেশ্বরের আটচালা মন্দির অন্যতম । টেরাকোটা চিত্র মন্দিরের থামে খিলানে রয়েছে।চিত্রগুলির মধ্যে রামরাবনের যুদ্ধ ও নৌকাবিলাসের চিত্র প্রশংসার দাবি রাখে ।মন্দিরের সামনের দুটি থামের একটিতে দুর্গা, মহাবীর , লক্ষী , ও সরস্বতী এবং অন্যটিতে শ্রীকৃষ্ণ , অর্জুন এবং পর্তুগীজ সৈন্যদের চিত্র নজর কারে ।
প্রাচীনতম মন্দির - হুগলী জেলার প্রাচীনতম মন্দির হল দিগসুই গ্রামের নবরত্ন মন্দির , যার স্থাপনা হয় ১১৯৯ খ্রিঃ ।
লেখা - তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ । সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত ।
![]() |
| আঁটপুরের রাধাগবিন্দজিউর মন্দির |
প্রাচীন মন্দির গুলির প্রধান উপকরন - হুগলী জেলায় পাথর খুব দুর্লভ বলে বেশিরভাগ মন্দির এখানে তৈরি হয়েছে সাধারন ইটের ,তবে কিছু প্রাচীন মন্দির পোড়া মাটির দ্বারাও নির্মিত।
প্রাচীন মন্দিরের প্রকারভেদ - হুগলীতে বিভিন্ন প্রকারের প্রাচীন মন্দির দেখতে পাওয়া যায় যথাক্রমে চালা মন্দির , রত্ন মন্দির , এবং বাংলা মন্দির । চালা মন্দির আবার দুই শ্রেণির চৌচালা এবং আটচালা । বাংলা মন্দির এর প্রকার ভেদও দুই যথা এক বাংলা এবং জোড়া বাংলা ।
বিশিষ্ঠ প্রাচীন মন্দির - হুগলী জেলায় বিশেষ বিশেষ কিছু মন্দির রয়েছে তবে যাদের সম্পর্কে আলোচনা না করলেই নয় সেগুলি হল -
প্রথম - ১৭২৯ খ্রিঃ তৈরি হওয়া আটচালা মন্দির তারকেশ্বর মন্দির , যার খ্যাতি জগৎজোড়া।
দ্বিতীয় - ১৮১৪ খ্রিঃ তৈরি হওয়া বাঁশবেড়িয়ার রানী শঙ্করী প্রতিষ্ঠিত তে্রচূড়া বিশিষ্ঠ হংশেস্বরী মন্দির ।
তৃতীয় - চতুর্দশ শতাব্দীর ১৩৯৬ খ্রিঃ তৈরি হওয়া রত্ন মন্দির হল শ্রীরামপুর মাহেশের জগন্নাথ দেবের মন্দির ।
চতুর্থ - হংশেস্বরী মন্দিরের পাশেই অনন্ত দেবের মন্দির যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭৯ খ্রিঃ।মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ইটের উপর দেবদেবীর অনেক মূর্তি খোদিত আছে । এই ধরনের বিরাট মন্দির হুগলী জেলার অনেক জায়গায় আছে যেমন বল্লভপুরের বল্লভজিউর মন্দির , খানাকুলে রাধাবল্লভজিউর মন্দির, গুপ্তিপাড়ায় বৃন্দাবনজিউর মন্দির, চন্দনগরের নন্দদুলালের মন্দির , আঁটপুরের রাধাগবিন্দজিউর মন্দির উল্লেখযোগ্য ।
পঞ্চম- হুগলী জেলায় সবচেয় বেশি প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে দেখা যায় শিব মন্দির যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
দ্বাদশ শিব মন্দির - বাকসা , কোন্নগর, গোপীনগর,মাকালপুর ও বেলমুড়ি ।
সপ্তশিব মন্দির- সিঙ্গুর
পঞ্চশিব মন্দির - ভগবতিপুর
জোড়া শিব মন্দির -সোমসপুর , খানাকুল , জনাই , রাজবলহাট , ভান্ডারহাটি , পানসেওলা , হারিপাল, কাঁকড়াকুলি , জয়নগর , পুইনান , শ্যামপুর , বেড়াগড়ি ও ভাস্তারা ।
ষষ্ঠ - মহানাদের নচূড়া বেষ্ঠিত ব্রম্ভময়ী দেবীর মন্দির ১২৩৬ খ্রি ঃ তৈরি হয় , মন্দিরে ব্রম্ভময়ী কালিকা দেবী ও চার কোনে চারটি শিবলিঙ্গ ও তিনতলার চূড়ায় হংসেশ্বর শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে ।
সপ্তম - খানাকুলে কানা দ্বারকেশ্বর নদীর তীরের শ্মশানে ঘন্টেশ্বর শিবের মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য । শ্মশানে এরুপ মন্দির আর কোথাও দেখা যায় না ।
অষ্টম - মহানাদের একচূড়া বিশিষ্ঠ সূঊচ্চ লালজিউর মন্দির , এরকম মনুমেন্টের মতো মন্দির হুগলী জেলায় আর কোথাও নেই.১৭৭৩ শকাব্দে মন্দিরটি তৈরি হলেও ভূমিকম্পে ফেটে গিয়ে এর বিগ্রহকে স্থানান্তরিত করা হয় ।
নবম- বঙ্গদেশে গুপ্তিপাড়া এবং ভদ্রেশ্বর ছাড়া আর কোথাও রাম সিতা মন্দির নেই । এই মন্দির গুলিতে রাম, সিতা , লক্ষণ ও হনুমানজীর পুজা হয় । মূর্তিগুলি প্রত্যেকটিই দারুনির্মিত । মন্দিরের গায়ে রাধা শ্যামের জুগল মূর্তি , গরুড় বাহন , রাবনের যুদ্ধ যাত্রা , এর ছবি অঙ্কিত ।
দশম - বৈচিগ্রামের রাধামাধবের রেখ-দেউলের প্রাচীন মন্দির ১৬৩২ খ্রিঃ তৈরি হয়েছিল । রেখ -দেউল এর অস্তিত্ত বঙ্গদেশে পাওয়া যায় না এটি উড়িষ্যার মন্দিরের স্থাপ্যত্যকীর্তি ।এই মন্দির উড়িষ্যার মন্দিরের অনুকরনে সপ্তরথ এবং সপ্তাঙ্গের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছিল ।
বিশেষ শিল্পকলাযুক্ত মন্দির - দ্বারহাট্টার রাজরাজেশ্বরের আটচালা মন্দির অন্যতম । টেরাকোটা চিত্র মন্দিরের থামে খিলানে রয়েছে।চিত্রগুলির মধ্যে রামরাবনের যুদ্ধ ও নৌকাবিলাসের চিত্র প্রশংসার দাবি রাখে ।মন্দিরের সামনের দুটি থামের একটিতে দুর্গা, মহাবীর , লক্ষী , ও সরস্বতী এবং অন্যটিতে শ্রীকৃষ্ণ , অর্জুন এবং পর্তুগীজ সৈন্যদের চিত্র নজর কারে ।
প্রাচীনতম মন্দির - হুগলী জেলার প্রাচীনতম মন্দির হল দিগসুই গ্রামের নবরত্ন মন্দির , যার স্থাপনা হয় ১১৯৯ খ্রিঃ ।
লেখা - তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ । সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত ।

0 comments:
Post a Comment