ফুরফুরা শরীফের আদিকথা
ফুরফুরা শরীফ হুগলী জেলার জাঈীপাড়া থানার অন্তর্গত একটি প্রাচীন স্থান ।ফুরফুরা বঙ্গের মুসলিম সমাজের একটি অন্যতম পীঠস্থান , আরবি শব্দ ফুরফুরা এর অর্থ পরম আনন্দ ।শরীফ প্রতিষ্ঠা তার উথ্থান এবং তার বর্তমান আবস্থান আজকের আলোচ্য বিষয় ।
শরীফ প্রতিষ্ঠা - বর্তমানের ফুরফুরা প্রাচীন কালে 'বালিয়া বাসান্তি' নামে পরিচিত ছিল , যা এক 'বাগদি' রাজার রাজধানী ছিল.৭৯৬ হিজরিতে সুলতান গিয়াসুদ্দিন বঙ্গের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুস্বামিদের হারিয়ে তাদের রাজ্য নিজের রাজ্যে অন্তরভুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেন। সেই সময় সুলতানের আদেশে হজরত শাহী সুফি বালিয়া বাসান্তি আক্রমন করেন এবং বাগদি রাজাকে পরাজিত করেন।পরে এই স্থানে মুসলিম গৌরব স্থাপিত হলে ইহা ফুরফুরা শরীফ নামে পরিচিত হয়।
ফুরফুরার পীর বংশ - সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাগদাদ থেকে দিল্লিতে সর্বপ্রথম আসেন এই পীর বংশ । সম্রাট তাদের ধর্মপ্রবনতা দেখে এই পীর বংশকে নিষ্কর ৫০০০ বিঘা জমির জায়গীর আয়মা(জমির সত্ত্ব) প্রদান করেন এবং তাদের ফুরফুরায় পাঠান।সেই সময় ফুরফুরায় ৭০০ ঘর মুসলিম বাস করতেন । সিপাহী বিদ্রহের কিছু পূর্বে প্রফেট হযরত মহম্মদের বংশধর পীর মৌলানা আবু বক্কার সাহেব জন্মগ্রহন করেন তার খ্যাতিতেই এই পীর বংশের আসল খ্যাতি । এই পীর বংশে এরপর বহু মহাপুরুষ এবং ভগব্দভক্ত ফকির জন্মগ্রহন করায় এই স্থান বঙ্গের মুসলিমদের নিকট তীর্থস্থান রুপে পরিগনিত হয় ।
ফুরফুরার প্রাচীন মসজিদ - ১৩৭৫ খ্রিঃ মুসলিস খান দ্বারা নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদ আজও বহাল তবিয়তে মজুত ।
আনোয়ার কুলির কবর - হজরত মহম্মদ কবীর যিনি জনসমাজে আনোয়ার কুলি নামে পরিচিত ছিলেন তার কবর এই স্থানে আছে ।তাহার সমাধির দুটি প্রস্তর খন্ডের থেকে জানা যায় তিনি তার সামনে উবু হয়ে বসে দাড়ি কামাইতেন ।
ফুরফুরার খ্যাতি - অষ্ঠাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এখানে হযরত মৌলানা জোবের শাহ নামক এক যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ বাস করিতেন । সিপাহী বিদ্রহের পূর্বে একবার 'লর্ড ক্লাইভ' ওনার নিকট হইতে পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হবার আশীর্বাদের জন্য পারথনা করেন এবং তিনি 'জয়ী হও' বলে আশীর্বাদ করেন। তাহার ঈক শিষ্য তাহাকে যখন জিজ্ঞ্যাসা করেন আশীর্বাদের কারন তখন তিনি বলেন যে ধ্যানে তিনি জানতে পেরেছেন যে " ঈশ্বরের লোক বিজয়ের পতাকা লইয়া ইহাদের নিকট এগিয়ে যাচ্ছে সুতরাং তিনি আশীর্বাদ না করিলেও তাহাদের জয় কেউ রধ করতে পারবে না ।"
ফুরফুরার প্রধান খ্যাতি হল হজরত মহম্মদের বংশধর মৌলানা আবু বক্কার সাহেবের জন্মস্থান হিসাবে।তার ধর্মনিষ্ঠা এবং পবিত্র চরিত্রের জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ্য মুসলমান তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন । তিনি গরিব মানুষের জন্য শিক্ষ্যার জন্য মাদ্রাসা এবং চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি করেন । আবু বক্কার সাহেবের খ্যাতির কারনে ফুরুফুরার খ্যাতি জগৎজোড়া ।
ফুরুফুরার রক্ষণাবেক্ষণ - বর্তমানে ফুরফুরা শরীফের সকল প্রকার দায়িত্ব একা হাতে সামলাচ্ছেন ফুরফুরার প্রধান পীর আল্লামা কুতুবুদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব । তবে ফুরফুরার মসজিদ , মাদ্রাসা ও মাজার এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন বিভিন্ন মিশন তবে তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব গ্রহন করেছে মুজাদ্দেদ মিশন।আর্থিক সচ্ছলতা এবং সকল প্রকার সামজিক দায়বদ্ধতার প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন মিশনের সভাপতি পীরজাদা মাওঃ জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব ।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস এবং বঙ্গ সমাজ । সুধীর কুমার মিত্র
ছবি- সংগৃহীত ।
![]() |
| আবু বাক্কার সাহেবের মাজার(ফুরফুরা শরীফ) |
শরীফ প্রতিষ্ঠা - বর্তমানের ফুরফুরা প্রাচীন কালে 'বালিয়া বাসান্তি' নামে পরিচিত ছিল , যা এক 'বাগদি' রাজার রাজধানী ছিল.৭৯৬ হিজরিতে সুলতান গিয়াসুদ্দিন বঙ্গের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুস্বামিদের হারিয়ে তাদের রাজ্য নিজের রাজ্যে অন্তরভুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেন। সেই সময় সুলতানের আদেশে হজরত শাহী সুফি বালিয়া বাসান্তি আক্রমন করেন এবং বাগদি রাজাকে পরাজিত করেন।পরে এই স্থানে মুসলিম গৌরব স্থাপিত হলে ইহা ফুরফুরা শরীফ নামে পরিচিত হয়।
ফুরফুরার পীর বংশ - সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাগদাদ থেকে দিল্লিতে সর্বপ্রথম আসেন এই পীর বংশ । সম্রাট তাদের ধর্মপ্রবনতা দেখে এই পীর বংশকে নিষ্কর ৫০০০ বিঘা জমির জায়গীর আয়মা(জমির সত্ত্ব) প্রদান করেন এবং তাদের ফুরফুরায় পাঠান।সেই সময় ফুরফুরায় ৭০০ ঘর মুসলিম বাস করতেন । সিপাহী বিদ্রহের কিছু পূর্বে প্রফেট হযরত মহম্মদের বংশধর পীর মৌলানা আবু বক্কার সাহেব জন্মগ্রহন করেন তার খ্যাতিতেই এই পীর বংশের আসল খ্যাতি । এই পীর বংশে এরপর বহু মহাপুরুষ এবং ভগব্দভক্ত ফকির জন্মগ্রহন করায় এই স্থান বঙ্গের মুসলিমদের নিকট তীর্থস্থান রুপে পরিগনিত হয় ।
ফুরফুরার প্রাচীন মসজিদ - ১৩৭৫ খ্রিঃ মুসলিস খান দ্বারা নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদ আজও বহাল তবিয়তে মজুত ।
আনোয়ার কুলির কবর - হজরত মহম্মদ কবীর যিনি জনসমাজে আনোয়ার কুলি নামে পরিচিত ছিলেন তার কবর এই স্থানে আছে ।তাহার সমাধির দুটি প্রস্তর খন্ডের থেকে জানা যায় তিনি তার সামনে উবু হয়ে বসে দাড়ি কামাইতেন ।
ফুরফুরার খ্যাতি - অষ্ঠাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এখানে হযরত মৌলানা জোবের শাহ নামক এক যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ বাস করিতেন । সিপাহী বিদ্রহের পূর্বে একবার 'লর্ড ক্লাইভ' ওনার নিকট হইতে পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হবার আশীর্বাদের জন্য পারথনা করেন এবং তিনি 'জয়ী হও' বলে আশীর্বাদ করেন। তাহার ঈক শিষ্য তাহাকে যখন জিজ্ঞ্যাসা করেন আশীর্বাদের কারন তখন তিনি বলেন যে ধ্যানে তিনি জানতে পেরেছেন যে " ঈশ্বরের লোক বিজয়ের পতাকা লইয়া ইহাদের নিকট এগিয়ে যাচ্ছে সুতরাং তিনি আশীর্বাদ না করিলেও তাহাদের জয় কেউ রধ করতে পারবে না ।"
ফুরফুরার প্রধান খ্যাতি হল হজরত মহম্মদের বংশধর মৌলানা আবু বক্কার সাহেবের জন্মস্থান হিসাবে।তার ধর্মনিষ্ঠা এবং পবিত্র চরিত্রের জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ্য মুসলমান তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন । তিনি গরিব মানুষের জন্য শিক্ষ্যার জন্য মাদ্রাসা এবং চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি করেন । আবু বক্কার সাহেবের খ্যাতির কারনে ফুরুফুরার খ্যাতি জগৎজোড়া ।
ফুরুফুরার রক্ষণাবেক্ষণ - বর্তমানে ফুরফুরা শরীফের সকল প্রকার দায়িত্ব একা হাতে সামলাচ্ছেন ফুরফুরার প্রধান পীর আল্লামা কুতুবুদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব । তবে ফুরফুরার মসজিদ , মাদ্রাসা ও মাজার এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন বিভিন্ন মিশন তবে তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব গ্রহন করেছে মুজাদ্দেদ মিশন।আর্থিক সচ্ছলতা এবং সকল প্রকার সামজিক দায়বদ্ধতার প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন মিশনের সভাপতি পীরজাদা মাওঃ জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকি সাহেব ।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস এবং বঙ্গ সমাজ । সুধীর কুমার মিত্র
ছবি- সংগৃহীত ।

0 comments:
Post a Comment