হুগলী জেলার জন্মকথা
শাসনতান্ত্রিক প্রয়জনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকারের নেতৃত্বে ১৭৯৫ খ্রিঃ বর্ধমান জেলার দক্ষিনাংশ নিয়ে তৈরি হয় হুগলী জেলা।সেই হুগলী জেলা অবশ্য আজকের প্ররিপ্রেক্ষীতে অনেক বড় ছিল।
পুরানো হুগলী জেলার আয়তন - সেই সময় মহকুমার কোন ধারনা ছিল না, কয়েকটি থানার সমষ্ঠিকে জেলা মনে করা হত। ১৭৯৫ খ্রিঃ হুগলী জেলায় ১৩টি থানা অর্ন্তভুক্ত ছিল যা হল ১) হুগলী, ২) বাঁশবেড়িয়া , ৩) পান্ডুয়া, ৪) বেনীপুর, ৫) ধানিয়াখালি , ৬) হারিপাল, ৭) রাজবলহাট ,৮)জাহানাবাদ ,৯) দেওয়ানগঞ্জ, ১০) চন্দ্রকোনা ,১১) ঘাটাল, ১২) বাগনান ,১৩) আমতা ।
পরিবর্তিত থানা - পরবর্তীতে কিছু থানার নাম পরিবর্তিত হয় , ১) বাঁশবেড়িয়ার বদলে মগরা ২) বেনীপুরের বদলে বলাগড় , ৩) রাজবলহাট এর বদলে জাঙ্গিপাড়া , ৪) জাহানাবাদ এর বদলে আরামবাগ ,৫) দেওয়ানগঞ্জের বদলে গোঘাট।
শ্রীরামপুরের অন্তর্ভুক্তি - ১৮৪৫ খ্রিঃ ২২শে ফেব্রুয়ারি ডেনমার্কের রাজার সহিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর মধ্যে এক বন্দোবস্ত হলে ফেড্রিক্স নগর আজকের শ্রীরামপুর হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয় ।
চন্দনগরের অন্তরভুক্তি- ভারত স্বাধীন হবার পর ১৯৫০ খ্রিঃ ২রা মে ফরাসি সরকার তার সমস্ত অধিকার ত্যাগ করে এবং চন্দনগর স্বাধীন ভারত তথা হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয়।
হুগলী জেলার নামকরন - ১৫৩৭ খ্রিঃ পর্তুগীজরা ভাগীরথী তীরে একটি ছোট বন্দর গড়ে তোলেন এবং তার
পর্তুগীজ নামকরন হয় "Porto Pequeno" , এই নাম থেকে হুগলী নাম কিভাবে হল ? পর্তুগীজ ঐতিহাসিকরা বলেন ঐ জনপদের পাশের নদীতে অনেক হোগলা গাছ জন্মাত সেই থেকেই হুগলী নামকরন। তবে এই নামকরনের পিছনে পর্তুগীজদের কোন হাত ছিল না , বিপ্রদাসের মনসার ভাসান পুঁথিতে(১৪৯৫ খ্রিঃ ) হুগলী নাম দেখা যায় ।
হুগলী জেলার স্থাপত্য - ১৫৯৯ খ্রিঃ পূর্ব ভারতের প্রথম কনভেন্ট ও গির্জা গরে ওঠে হুগলীর বালিতে ।সম্রাট শাহাজাহান নানা কারনে পর্তুগীজদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন ১৬৩২ খ্রিঃ তার নির্দেশে কাশিম খাঁ হুগলী অভিজান করেন এবং পর্তুগীজদের হারিয়ে সব স্থাপত্য ধ্বংস করেন। পরে পর্তুগীজদের সম্রাট এর দরবার এ পেশ করা হলে কিছু অজ্ঞাত কারনে শাস্তির বদলে পর্তুগীজদের ব্যান্ডেলে ৭৭৭ বিঘা জমি দান করা হয় । প্রাপ্ত জমিতে গোমেজ জি সেটোর চেষ্টায় ১৬৬১ খ্রিঃ ব্যান্ডেলে কনভেন্ট ও গির্জা পুনর্নির্মিত হয় ।
হুগলী জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি - বাংলা অক্ষর সমন্বিত প্রথম ছাপাখানা আন্ড্রুস প্রেস হুগলী শহরে ১৭৭৮ খ্রিঃ স্থাপিত হলে চার্লস উলকিন্সন তত্যাবধানে ন্যাথিব্রেলবাসী হ্যালহেড লিখিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ "A Grammer of the Bengal language" মুদ্রিত হয়েছিল। শ্রীরামপুর মিশন প্রেস এর সাহায্যে শ্রীরামপুর থেকে প্রথম বাংলা সাময়িক পত্রিকা দিগদর্শন (এপ্রিল ১৮১৮ খ্রিঃ) ,প্রথম বাংলা সংবাদ পত্র সামাচার দর্পণ (২৩শে মে ১৮১৮ খ্রিঃ) ,এবং ইংরাজি সংবাদ পত্র Friend Of India ( ৩০শে এপ্রিল ১৮১৮ খ্রিঃ) প্রকাশিত হয়েছিল ।
হুগলী জেলার ভাগ- ১৮৭২ খ্রিঃ হুগলী জেলাকে ভাগ করে সৃষ্টি হয় হাওড়া এবং মেদিনীপুর জেলা।প্রসঙ্গত হুগলী জেলার বরেন্য সন্তান বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রাম হুগলী থেকে মেদিনীপুর এ অন্তরভুক্ত হয় এবং ৫২ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর এর জন্মস্থান জেলান্তরিত হয়।
তথ্য- হুগলী জেলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি ।
ছবি- সংগৃহীত ।
![]() |
| হুগলী জেলা সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের পটভূমি |
পুরানো হুগলী জেলার আয়তন - সেই সময় মহকুমার কোন ধারনা ছিল না, কয়েকটি থানার সমষ্ঠিকে জেলা মনে করা হত। ১৭৯৫ খ্রিঃ হুগলী জেলায় ১৩টি থানা অর্ন্তভুক্ত ছিল যা হল ১) হুগলী, ২) বাঁশবেড়িয়া , ৩) পান্ডুয়া, ৪) বেনীপুর, ৫) ধানিয়াখালি , ৬) হারিপাল, ৭) রাজবলহাট ,৮)জাহানাবাদ ,৯) দেওয়ানগঞ্জ, ১০) চন্দ্রকোনা ,১১) ঘাটাল, ১২) বাগনান ,১৩) আমতা ।
পরিবর্তিত থানা - পরবর্তীতে কিছু থানার নাম পরিবর্তিত হয় , ১) বাঁশবেড়িয়ার বদলে মগরা ২) বেনীপুরের বদলে বলাগড় , ৩) রাজবলহাট এর বদলে জাঙ্গিপাড়া , ৪) জাহানাবাদ এর বদলে আরামবাগ ,৫) দেওয়ানগঞ্জের বদলে গোঘাট।
শ্রীরামপুরের অন্তর্ভুক্তি - ১৮৪৫ খ্রিঃ ২২শে ফেব্রুয়ারি ডেনমার্কের রাজার সহিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর মধ্যে এক বন্দোবস্ত হলে ফেড্রিক্স নগর আজকের শ্রীরামপুর হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয় ।
চন্দনগরের অন্তরভুক্তি- ভারত স্বাধীন হবার পর ১৯৫০ খ্রিঃ ২রা মে ফরাসি সরকার তার সমস্ত অধিকার ত্যাগ করে এবং চন্দনগর স্বাধীন ভারত তথা হুগলী জেলায় অন্তরভুক্ত হয়।
হুগলী জেলার নামকরন - ১৫৩৭ খ্রিঃ পর্তুগীজরা ভাগীরথী তীরে একটি ছোট বন্দর গড়ে তোলেন এবং তার
পর্তুগীজ নামকরন হয় "Porto Pequeno" , এই নাম থেকে হুগলী নাম কিভাবে হল ? পর্তুগীজ ঐতিহাসিকরা বলেন ঐ জনপদের পাশের নদীতে অনেক হোগলা গাছ জন্মাত সেই থেকেই হুগলী নামকরন। তবে এই নামকরনের পিছনে পর্তুগীজদের কোন হাত ছিল না , বিপ্রদাসের মনসার ভাসান পুঁথিতে(১৪৯৫ খ্রিঃ ) হুগলী নাম দেখা যায় ।
হুগলী জেলার স্থাপত্য - ১৫৯৯ খ্রিঃ পূর্ব ভারতের প্রথম কনভেন্ট ও গির্জা গরে ওঠে হুগলীর বালিতে ।সম্রাট শাহাজাহান নানা কারনে পর্তুগীজদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন ১৬৩২ খ্রিঃ তার নির্দেশে কাশিম খাঁ হুগলী অভিজান করেন এবং পর্তুগীজদের হারিয়ে সব স্থাপত্য ধ্বংস করেন। পরে পর্তুগীজদের সম্রাট এর দরবার এ পেশ করা হলে কিছু অজ্ঞাত কারনে শাস্তির বদলে পর্তুগীজদের ব্যান্ডেলে ৭৭৭ বিঘা জমি দান করা হয় । প্রাপ্ত জমিতে গোমেজ জি সেটোর চেষ্টায় ১৬৬১ খ্রিঃ ব্যান্ডেলে কনভেন্ট ও গির্জা পুনর্নির্মিত হয় ।
হুগলী জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি - বাংলা অক্ষর সমন্বিত প্রথম ছাপাখানা আন্ড্রুস প্রেস হুগলী শহরে ১৭৭৮ খ্রিঃ স্থাপিত হলে চার্লস উলকিন্সন তত্যাবধানে ন্যাথিব্রেলবাসী হ্যালহেড লিখিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ "A Grammer of the Bengal language" মুদ্রিত হয়েছিল। শ্রীরামপুর মিশন প্রেস এর সাহায্যে শ্রীরামপুর থেকে প্রথম বাংলা সাময়িক পত্রিকা দিগদর্শন (এপ্রিল ১৮১৮ খ্রিঃ) ,প্রথম বাংলা সংবাদ পত্র সামাচার দর্পণ (২৩শে মে ১৮১৮ খ্রিঃ) ,এবং ইংরাজি সংবাদ পত্র Friend Of India ( ৩০শে এপ্রিল ১৮১৮ খ্রিঃ) প্রকাশিত হয়েছিল ।
হুগলী জেলার ভাগ- ১৮৭২ খ্রিঃ হুগলী জেলাকে ভাগ করে সৃষ্টি হয় হাওড়া এবং মেদিনীপুর জেলা।প্রসঙ্গত হুগলী জেলার বরেন্য সন্তান বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রাম হুগলী থেকে মেদিনীপুর এ অন্তরভুক্ত হয় এবং ৫২ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর এর জন্মস্থান জেলান্তরিত হয়।
তথ্য- হুগলী জেলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি ।
ছবি- সংগৃহীত ।

0 comments:
Post a Comment