কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস
কালীঘাট একটি বহু পুরানো হিন্দু পীঠস্থান , এটি একটি সতীপীঠ নাকি নয় তা নিয়ে ভিন্ন মত প্রচারিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস ।
![]() |
| পুরানো কালীঘাট মন্দির এর চিত্র |
শিলাপ্রাপ্তি - জনমতে প্রচারিত ব্রম্ভানন্দ গিরি এবং আত্মারাম ব্রম্ভ্যচারী নামক দুই সন্যাসি একটি সতী মায়ের ডান পায়ের আঙ্গুল পান যা তারা একটি শিলাখণ্ডে মায়ের রুপদান করেন ।
কথিত একদিন হুগলী নদীবক্ষে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় যাতায়াতের সময় আলোকবিন্দু দেখে আকৄষ্ঠ হয়ে ঐ পাথর খুঁজে পান ।
![]() |
| পুরানো কালীঘাট মন্দির এর হাতে আঁকা ছবি |
পুরানো মন্দির স্থাপন - ১৭৫২ খ্রিঃ মনোহর ঘোষাল ও গোকুল হালদার এর প্রদ্যত্ত জমিতে বড়িশার জমিদার শ্রী সন্তোশ রায়চৌধুরি মহাশয় প্রাপ্ত শিলাখণ্ড সহযোগে একটি কালী মন্দির স্থাপনা করেন যা আজকের দিনে কালীঘাট নামে প্রচলিত ।
নূতন মন্দির স্থাপন - ১৮০৯ খ্রিঃ বড়িশার জমিদার শিবদাস রায়চৌধুরী এবং তার পুত্র রামলাল রায়চৌধুরী এবং ভাতুস্পুত্র লক্ষী্কান্ত রায়চৌধুরী এর কতৃক নূতন মন্দির এর স্থাপনা করা হয় ।
মন্দির এর আয়তন - ১ বিঘা ১১ কাটা ৩ ছটাক মূল আয়তন যুক্ত জমির পরিধির মধ্যে প্রকৃ্ত মন্দির এর আয়তন ৮ কাটা ।
মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ঠ - বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশিল্পে তৈরি ৯০ ফুট উঁচু মন্দির যা ৮বছর সময়কালে ,৩০০০০ টাকা ব্যায়ে প্রস্তুত করা হয় ।
নাট মন্দির - ১৮৩৫ খ্রিঃ জমিদার কৃষ্ণনাথ রায়চৌধুরী কতৃক সর্বসাধারণের জন্য প্রস্তুত করা হয় এই নাটমন্দির।
পূজিত দেবদেবী - মূল মন্দির কালিকা দেবীর পুজা হলেও আরও অনেক মন্দিরে অনেক দেবদেবীর পুজা করা হয় যথাক্রমে রাধা-কৄষ্ন , শিব , ষষ্ঠী ,শিতলা , মঙ্গল চণ্ডী প্রভৃতি ।
বিঃদ্রঃ - কালীঘাট একটি সতীপীঠ কিনা তা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও জনমতে প্রচরিত সতীর ডান পায়ের আঙ্গুল পাওয়ার কারনে এটিকে একটি সতীপীঠ মনে করা যেতেই পারে ,তবে বিপ্রদাস রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে এর উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য - কলিকাতা সেকালের ও একালের হরিসাধন মুখোপাধ্যায় ।
ছবি -সংগৃহীত


0 comments:
Post a Comment