হারিয়ে যাচ্ছে হাওড়া ব্রিজের গরিমা
হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনগুলি
।পুরনো গাড়ি, পুরনো ঐতিহ্য, নতুনত্ব গ্রাস করেছে তার পুরনো মায়া।সভ্যতা মুছে
দিচ্ছে তার ফেলে আসা দিনগুলি।
ভারতবর্ষ বলতে দুটো কথা সবসময় মাথায় আসে ১ তাজমহল ও ২ হাওড়া
ব্রিজ , দুই এরই গরিমা ঝড়ে পরছে।তবে আজকের আলোচনা হাওড়া ব্রিজ নিয়ে । এই স্বপ্নের
সেতুর স্বপ্ন দেখা শুরু হয় ১৮৫৫ সালে , ব্রিটিশ শাষিত ভারত সরকার এর পূর্ব রেল এর
মূখ্য ইঞ্জিনীয়ার র্জজ টার্নবুল এর সুদুর প্রসারি ভাবনায়।এই ভাবনা রুপান্তরিত করার
জন্য অনেক কাঠ খড় পোড়ানোর প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন।তার কিছু মূখ্য কারন হল হুগলি
নদী এর উপর ব্রিজ বানানো খুবই খরচ সাপেক্ষ এবং নদীর স্রোতের প্র্তিকুলে স্তম্ভ
বানানো ভয়াবহ ও বটে।
এই কথা মাথায় রেখে ১৮৭০
সালে কলিকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এর জন্ম এবং ১৮৭১ সালে তার অনুমোদন প্রাপ্তি এবং
ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন এক বড় সাফল্য । কিন্তু ঝড় ঝাপ্টা না সহ্য না করলে সাফল্য মেলে
? এই ক্ষেত্রেও তাই ১৮৭৪ সালে এক সাইক্লোন ঝড় এ প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় কিন্তু মজার ব্যাপার
সেই বছর এর ১৭ অক্টোবর মাসে উদ্ধবোদন হয় পন্টুন ব্রিজ এর যার দৈর্ঘ ছিল ১৫২৮ ফুট
লম্বা এবং
প্রস্থ ছিল ৬২ ফুট ।
কিন্তু বড়ো জাহাজ পারাপার করা ছিল খুবই ঝুঁকিপর্ন, তাই
আবার নূতন ছক কষা শুরু এবং বড় ব্রিজ এর পরিকল্পনা করা হই ১৯০৬ সালে। কিন্তু এটি
খুবই খরচ সাপেক্ষ তাই অনেক টালবাহানার পর অবশেষে প্ল্যানিং কমিশন বসে কিন্তু
বিশ্বযুদ্ধ এর কারনে শেষমেষ ১৯৩৬ খ্রিঃ এ এর অনুমদোন দেওয়া হয়।বিশ্বের প্রথম আকরিক
লোহার ঝুলন্ত সেতু বানানো শুরু হয় Braithwaite, Burn
& Jessop Construction এর দ্বারা । সেতুর কাজ সম্পূর্ন হয় ১৯৪২ খ্রিঃ এ , এবং উদ্ধবোধন হয় নবনির্মীত হাওড়া বিজ
এর।
কাঠের সেতু থেকে
পুরোদস্তুর একটি আকরিক লোহার দানব , গরুর গাড়ী থেকে ইলেক্ট্রিক গাড়ী, সবই ছুটেছে
সময়ের অন্তরালে পরিবর্তিত হয়েছ সব কিছুই হয়নী কেবল দুটি জিনিষ এর সয়ং ব্রিজ এবং
মানুষের সারির।দৈনিক ৩,০০,০০০ গাড়ীর ধোঁয়া এবং ৪৫,০০,০০০ মানুষর দাপাদাপি , বিধির
সর্তকতাকে থোড়াই কেয়ার।নূতন কেবল পুরনোকে মুছেই দেয় না নষ্ঠও করছে শেষ করছে তার
ঐতিহ্যকে আর উপরি হিসাবে দিচ্ছে আর্বজনার স্তূপ।এটাই কি সভ্যতা?


0 comments:
Post a Comment