হুগলী মহসীন কলেজের ইতিকথা
হুগলী জেলার ইতিহাস ও গৌ্রব সমৃদ্ধ এই মহসীন কলেজ, যা জেলার দ্বিতীয় বৃহৎ (আয়তন এবং সন্মান) কলেজ। কিছু বছর আগে পর্যন্ত একটি কথা এই কলেজ নিয়ে প্রচলিত ছিল 'মহসীন কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি ' , আজ আমাদের আলোচনা এই কলজের ইতিহাস নিয়ে।
ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন - ১৭৭৪ খ্রিঃ মঁসিয়ে পেরন নামক একজন ফরাসি সৈনিক বহু অর্থ উপার্জন করে বঙ্গদেশে আসেন এবং ১৮১০ খ্রিঃ মহসী্ন কলেজের এই ভবনটি নির্মাণ করেন এবং তার কিছু দিন পরই এই ভবন বিক্রয় করে নিজদেশে ফিরে যান।শ্রী প্রানকৃষ্ণ হালদার নামক এক জনৈক ব্যাক্তি বাড়িটি কিনে নেন বসবাস করতে শুরু করেন । ১৮৩৬ খ্রিঃ তিনি শ্রী জগমোহন শীলকে এই ভবন ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন ।
কলেজের দ্বারদ্ঘোটন - ১৮৩৬ খ্রিঃ ১লা অগস্ট মহসীন কলেজের দ্বারদ্ঘোটন হয় , তবে সেই সময় কলজের নামছিল 'কলেজ অফ মহম্মদ মহসিন ' ।
কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা - প্রত্যেক ছাত্র - ছাত্রী জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই কলেজে বিনা বেতনে শিক্ষালাভ করতে পারত । তখন এট্রাস ও বিএ পরীক্ষা চালু না হওয়ায় তখন ছাত্র -ছাত্রীরা জুনিয়ার ও সিনিয়র স্বলারশিপ পরীক্ষা দিত ।
তখন কলেজ দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল ১) ইংরাজি বিভাগ কলেজ এবং ২) কলিজিয়েট বিদ্যালয় । সিনিয়র ডিভিশন সেকশান 'এ' এবং জুনিয়র ডিভিশন ' বি ' তার মধ্যে সিনিয়র ডিভিশনে তিনটি শ্রেণী এবং জুনিয়র ডিভিশনে চারটি শ্রেণী ছিল ।
নূতন শিক্ষাব্যবস্থা - ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী থেকে ' কাউনসিল অফ এডুকেশন ' বিনা বেতনে শিক্ষা দেবার প্রথা তুলেদেন । সিনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের তিন টাকা এবং জুনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের দুটাকা দেতন ধার্য হয় তবে বেতন দিতে অক্ষম ছাত্ররা বিনা বেতনেই পড়াশোনা করতেন।
কলজের নাম পরিবর্তন - ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী মাস থেকে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী কলেজ ' ।পরে কলেজের ১০০ বছর পূর্তি থেকে কলজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী মহসীন কলেজ ' ।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৮৫৭ খ্রিঃ থেকে মহসীন কলেজ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৯৬০ খ্রিঃ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এই কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।
প্রথম অধ্যক্ষ - ডক্টর টমাস এ ওয়াইজ নামক হুগলীর এক সিভিল সার্জেন এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন ।
বিশিষ্ঠ ছাত্র - এই কলেজের বহু শিক্ষার্থী বহু ক্ষেত্রে সফল তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু শিক্ষার্থীরা যাদের ব্যপারে না বললেই নয় তারা হলেন
১) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক এবং সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৮৪৯ খ্রিঃ থেকে ১৮৫৬ খ্রিঃ পর্যন্ত শিক্ষালাভ করেন ।
২) কবি , গীতিকার এবং নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই কলেজেই শিক্ষালাভ করেন।
৩) ভারতীয় বামপন্থার প্রান প্রতিষ্ঠাতা মুজাফ্ফর আহমেদ যিনি কাকাবাবু নামে বেসি পরিচিত ছিলেন তিনিও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন।
৪) লেখক ও কবি সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , যিনি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাইয়ের দাদা হিসাবে অধিকতর পরিচিত ছিলেন।
৫) বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন ।
৬) বিখ্যাত গায়ক শ্যামল মিত্র এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন ।
৭) রায় বাহাদুর স্যার উপেন্দ্রানাথ ব্রম্ভচারি তিনিও এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন।
লেখা- তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ। সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত।
![]() |
| হুগলী মহসীন কলেজ |
ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন - ১৭৭৪ খ্রিঃ মঁসিয়ে পেরন নামক একজন ফরাসি সৈনিক বহু অর্থ উপার্জন করে বঙ্গদেশে আসেন এবং ১৮১০ খ্রিঃ মহসী্ন কলেজের এই ভবনটি নির্মাণ করেন এবং তার কিছু দিন পরই এই ভবন বিক্রয় করে নিজদেশে ফিরে যান।শ্রী প্রানকৃষ্ণ হালদার নামক এক জনৈক ব্যাক্তি বাড়িটি কিনে নেন বসবাস করতে শুরু করেন । ১৮৩৬ খ্রিঃ তিনি শ্রী জগমোহন শীলকে এই ভবন ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন ।
কলেজের দ্বারদ্ঘোটন - ১৮৩৬ খ্রিঃ ১লা অগস্ট মহসীন কলেজের দ্বারদ্ঘোটন হয় , তবে সেই সময় কলজের নামছিল 'কলেজ অফ মহম্মদ মহসিন ' ।
কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা - প্রত্যেক ছাত্র - ছাত্রী জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই কলেজে বিনা বেতনে শিক্ষালাভ করতে পারত । তখন এট্রাস ও বিএ পরীক্ষা চালু না হওয়ায় তখন ছাত্র -ছাত্রীরা জুনিয়ার ও সিনিয়র স্বলারশিপ পরীক্ষা দিত ।
তখন কলেজ দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল ১) ইংরাজি বিভাগ কলেজ এবং ২) কলিজিয়েট বিদ্যালয় । সিনিয়র ডিভিশন সেকশান 'এ' এবং জুনিয়র ডিভিশন ' বি ' তার মধ্যে সিনিয়র ডিভিশনে তিনটি শ্রেণী এবং জুনিয়র ডিভিশনে চারটি শ্রেণী ছিল ।
নূতন শিক্ষাব্যবস্থা - ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী থেকে ' কাউনসিল অফ এডুকেশন ' বিনা বেতনে শিক্ষা দেবার প্রথা তুলেদেন । সিনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের তিন টাকা এবং জুনিয়র ডিভিশন ছাত্রদের দুটাকা দেতন ধার্য হয় তবে বেতন দিতে অক্ষম ছাত্ররা বিনা বেতনেই পড়াশোনা করতেন।
কলজের নাম পরিবর্তন - ১৮৪৬ খ্রিঃ জানুয়ারী মাস থেকে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী কলেজ ' ।পরে কলেজের ১০০ বছর পূর্তি থেকে কলজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ' হুগলী মহসীন কলেজ ' ।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৮৫৭ খ্রিঃ থেকে মহসীন কলেজ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্তি - ১৯৬০ খ্রিঃ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এই কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তরভুক্ত হয় ।
প্রথম অধ্যক্ষ - ডক্টর টমাস এ ওয়াইজ নামক হুগলীর এক সিভিল সার্জেন এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন ।
বিশিষ্ঠ ছাত্র - এই কলেজের বহু শিক্ষার্থী বহু ক্ষেত্রে সফল তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু শিক্ষার্থীরা যাদের ব্যপারে না বললেই নয় তারা হলেন
১) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক এবং সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৮৪৯ খ্রিঃ থেকে ১৮৫৬ খ্রিঃ পর্যন্ত শিক্ষালাভ করেন ।
২) কবি , গীতিকার এবং নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই কলেজেই শিক্ষালাভ করেন।
৩) ভারতীয় বামপন্থার প্রান প্রতিষ্ঠাতা মুজাফ্ফর আহমেদ যিনি কাকাবাবু নামে বেসি পরিচিত ছিলেন তিনিও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন।
৪) লেখক ও কবি সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , যিনি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাইয়ের দাদা হিসাবে অধিকতর পরিচিত ছিলেন।
৫) বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন ।
৬) বিখ্যাত গায়ক শ্যামল মিত্র এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন ।
৭) রায় বাহাদুর স্যার উপেন্দ্রানাথ ব্রম্ভচারি তিনিও এই কলেজেই শিক্ষা গ্রহন করেন।
লেখা- তারক রায়
তথ্য- হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ। সুধীর কুমার মিত্র।
ছবি- সংগৃহীত।

0 comments:
Post a Comment