প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান
বঙ্গ অধিকার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাবসা ,বানিজ্য ,শাসনতন্ত্রর উপর নজর দেওয়ার সাথে সাথে নজর দেন ধর্মসম্প্রসারন ,শিক্ষা ও স্থাপত্য সম্প্রসারনে ।
প্রথম বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন - ১৮২০ খ্রিঃ ২৮ ডিসেম্বর শ্রীরামপুরের গঙ্গাতীরে বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন ও ধর্মান্তকরন পক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় , যার প্রধান উদক্ত্যা ছিলেন উইলিয়াম কেরি । গঙ্গাতী্রে এই অনুষ্ঠান হয় বলে কেউ কেউ মনে করেন গঙ্গার আধ্যাত্মিক সক্তির কারনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় ,তবে উইলিয়াম কেরি জনতাকে উল্লেখ করে একটি বহু সমলোচিত বক্তৃতা দেন " গঙ্গার পবিত্রতা আমরা স্বীকার করিনা , উহার জলকে আমরা সাধারন জল বলিয়াই জানি ।"
প্রথম বাঙালি খ্রীষ্ঠান - উক্ত দিন কৃষ্ণদাস পাল নামক এক জনৈক সুত্রধর বাংলাদেশে প্রথম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন, সঙ্গে তাহার স্ত্রী , কন্যা এবং গোপাল নামক এক ব্যাক্তি ওই একই স্থানে খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।
বঙ্গীয় খ্রীষ্ঠানদের উপর হিন্দুদের আক্রোশ - উক্ত ঘটনায় গোঁড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন এর সৃষ্টি হয় , ঘটনার পরের দিনই তারা প্রায় দুশো জন এর একটি মিছিল নিয়ে কৃষ্ণদাসের বাড়ীতে চড়াও হয় এবং কৃষ্ণদাস ,তার স্ত্রী ,কন্যা ও গোপালকে বিচারক এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।
ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান - দিনেমার বিচারক ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান করেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করিয়া নিঃশর্ত মুক্তি দান করেন ।
ধর্মান্তরনকারীদের প্রাণনাশের চেষ্টা - রায়দান শেষ হলেও তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকার কারনে পাহারার সহিত তাদের বাড়ী পাঠান হলেও , গোঁড়া হিন্দুরা তাদের উপর চড়াও হয়।পাহারাদারদের তৎপরতায় দিনেমার গভর্নরের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের শ্রীরামপুর মিশনারি হাউসে থাকার এবং সশত্র পাহারার ব্যাবস্থা করেদেন।
প্রথম মুসলিমের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন - ১৮০১ খ্রিঃ শ্রীরামপুরে পিরু নামক এক জনৈক মুসলিম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।
প্রথম ব্রাম্ভনের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন - ১৮০৩ খ্রিঃ কৃষ্ণপ্রসাদ নামক জনৈক ব্রাম্ভন খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন , এবং স্বয়ং ওয়ার্ড সাহেব এবং উইলিয়াম কেরি তার ধর্মান্তরনের সময় উপস্থিত ছিলেন ।
প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ - ১৮০৩ খিঃ শ্রীরামপুরে প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণদাস পালের মেয়ের সহিত কৃষ্ণপ্রসাদের । বিবাহের যাবতীয় অনুষ্ঠান বাংলায় সম্পন্ন হয় , বর কন্যা দুজনেই প্রতিঞ্জাবদ্ধে স্বাক্ষর করেন এবং সাক্ষী হিসাবে উইলিয়াম কেরি এবং মার্শম্যান স্বাক্ষর করেন। বিবাহের পর একটি ভোজ অনুষ্ঠিত হয় যাহাতে মিশানরিগন ও বাঙালি খ্রিষ্ঠানরা এক সঙ্গে ভোজ গ্রহন করেন । ইংরেজদের সাথে বাঙালিদের এই প্রথম ভোজ হয় ।
প্রথম বাঙালি সামাধি - ১৮০১ খ্রিঃ গোকুল দাস প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান দেহত্যাগ করেন এবং তাহার সামাধি তৈরি হয়।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসামাজ । সুধীর কুমার মিত্র ।
ছবি- সংগৃহীত ।
![]() |
| প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠানের বাসস্থান |
প্রথম বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন - ১৮২০ খ্রিঃ ২৮ ডিসেম্বর শ্রীরামপুরের গঙ্গাতীরে বাংলা ভাষায় খ্রীষ্ঠধর্ম সন্মেলন ও ধর্মান্তকরন পক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় , যার প্রধান উদক্ত্যা ছিলেন উইলিয়াম কেরি । গঙ্গাতী্রে এই অনুষ্ঠান হয় বলে কেউ কেউ মনে করেন গঙ্গার আধ্যাত্মিক সক্তির কারনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় ,তবে উইলিয়াম কেরি জনতাকে উল্লেখ করে একটি বহু সমলোচিত বক্তৃতা দেন " গঙ্গার পবিত্রতা আমরা স্বীকার করিনা , উহার জলকে আমরা সাধারন জল বলিয়াই জানি ।"
প্রথম বাঙালি খ্রীষ্ঠান - উক্ত দিন কৃষ্ণদাস পাল নামক এক জনৈক সুত্রধর বাংলাদেশে প্রথম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন, সঙ্গে তাহার স্ত্রী , কন্যা এবং গোপাল নামক এক ব্যাক্তি ওই একই স্থানে খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।
বঙ্গীয় খ্রীষ্ঠানদের উপর হিন্দুদের আক্রোশ - উক্ত ঘটনায় গোঁড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন এর সৃষ্টি হয় , ঘটনার পরের দিনই তারা প্রায় দুশো জন এর একটি মিছিল নিয়ে কৃষ্ণদাসের বাড়ীতে চড়াও হয় এবং কৃষ্ণদাস ,তার স্ত্রী ,কন্যা ও গোপালকে বিচারক এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।
ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান - দিনেমার বিচারক ধর্মান্তরনকারীদের পক্ষে রায় দান করেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করিয়া নিঃশর্ত মুক্তি দান করেন ।
ধর্মান্তরনকারীদের প্রাণনাশের চেষ্টা - রায়দান শেষ হলেও তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকার কারনে পাহারার সহিত তাদের বাড়ী পাঠান হলেও , গোঁড়া হিন্দুরা তাদের উপর চড়াও হয়।পাহারাদারদের তৎপরতায় দিনেমার গভর্নরের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের শ্রীরামপুর মিশনারি হাউসে থাকার এবং সশত্র পাহারার ব্যাবস্থা করেদেন।
প্রথম মুসলিমের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন - ১৮০১ খ্রিঃ শ্রীরামপুরে পিরু নামক এক জনৈক মুসলিম খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন ।
প্রথম ব্রাম্ভনের খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন - ১৮০৩ খ্রিঃ কৃষ্ণপ্রসাদ নামক জনৈক ব্রাম্ভন খ্রীষ্ঠধর্ম গ্রহন করেন , এবং স্বয়ং ওয়ার্ড সাহেব এবং উইলিয়াম কেরি তার ধর্মান্তরনের সময় উপস্থিত ছিলেন ।
প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ - ১৮০৩ খিঃ শ্রীরামপুরে প্রথম দেশীয় খ্রিষ্ঠানের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণদাস পালের মেয়ের সহিত কৃষ্ণপ্রসাদের । বিবাহের যাবতীয় অনুষ্ঠান বাংলায় সম্পন্ন হয় , বর কন্যা দুজনেই প্রতিঞ্জাবদ্ধে স্বাক্ষর করেন এবং সাক্ষী হিসাবে উইলিয়াম কেরি এবং মার্শম্যান স্বাক্ষর করেন। বিবাহের পর একটি ভোজ অনুষ্ঠিত হয় যাহাতে মিশানরিগন ও বাঙালি খ্রিষ্ঠানরা এক সঙ্গে ভোজ গ্রহন করেন । ইংরেজদের সাথে বাঙালিদের এই প্রথম ভোজ হয় ।
প্রথম বাঙালি সামাধি - ১৮০১ খ্রিঃ গোকুল দাস প্রথম বাঙালি খ্রিষ্ঠান দেহত্যাগ করেন এবং তাহার সামাধি তৈরি হয়।
তথ্য - হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসামাজ । সুধীর কুমার মিত্র ।
ছবি- সংগৃহীত ।

0 comments:
Post a Comment